বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের কর্মী বাবু হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে জাতীয়তাবাদী কৃষক দল। দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও হত্যাকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এ সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় নেতারা।
শনিবার (৪ জুলাই) বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে রবিবার (৫ জুলাই) রাতে। মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহীন সিকদার স্বাক্ষরিত পৃথক আদেশে ওই তিন নেতাকে দলীয় সব পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন- সদর ইউনিয়ন কৃষক দলের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর মাল, যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রশিদ বয়াতী এবং সাংগঠনিক সম্পাদক সাইফুল হাওলাদার। আদেশে উল্লেখ করা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
সদর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি শাহীন সিকদার বলেন, ‘‘দলীয় পরিচয় ব্যবহার করে তারা এলাকায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছিলেন। এছাড়া সাম্প্রতিক একটি হত্যাকাণ্ডে তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ আমাদের কাছে এসেছে। তাদের কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। তাই সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।’’
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত ২৩ জুন মেহেন্দিগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাদেরকপুর গ্রামে জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগ কর্মী মাহাবুব আলম বাবুর ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলার ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল হয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরদিন সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের মা বকুল বেগম ২৬ জুন মেহেন্দিগঞ্জ থানায় সাতজনের নাম উল্লেখ করে এবং আরও ছয়জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার প্রধান আসামি করা হয় বজলুর রশিদ বয়াতীকে।
এজাহারে নাম থাকা অন্য আসামিরা হলেন শহীদ হোসেন পোদ্দার (৫০), জাহাঙ্গীর মাল (৪৫), নয়ন পোদ্দার (২২), মিরাজ পোদ্দার (৩৫), সাইফুল হাওলাদার (২৫) এবং মো. তুহিন (২০)।
মেহেন্দিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিন উদ্দিন বলেন, ‘‘হত্যা মামলার দুই আসামি নয়ন পোদ্দার ও জাহাঙ্গীর মালকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।’’
হত্যা মামলার তদন্ত চলমান থাকলেও এজাহারভুক্ত তিন নেতার বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ায় বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









