পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পাড়েরহাট মৎস্য বন্দর পার্শ্ববর্তী চিথলিয়া গ্রাম। কঁচা নদী তীরের এই গ্রামটি শুঁটকি পল্লী নামেই পরিচিত। শীত মৌসুমে যেন নতুন করে জেগে ওঠে পল্লীটি।
এখানে রয়েছে সারি সারি বাঁশের মাচা, যে শুকানো হয় মাছ। শ্রমিকদের কর্মব্যস্ততায় মুখর থাকে পুরো গ্রাম। সাধারণত অগ্রহায়ণ থেকে ফাল্গুন মাস পর্যন্ত চলে শুঁটকি উৎপাদন ও বাণিজ্য।
এই শুঁটকি পল্লীতে মৌসুমভেদে প্রায় ১৫০ থেকে ২০০ জন শ্রমিক কাজ করেন। কেউ বন্দর থেকে মাছ এনে পরিষ্কার করছেন, কেউ মাছ কাটছেন, আবার কেউ লবণ পানি মিশিয়ে বাঁশের মাচায় মাছ শুকানোর কাজে ব্যস্ত। শুকিয়ে যাওয়া শুঁটকি বস্তায় ভরে সংরক্ষণ করা হচ্ছে বাজারজাত করার জন্য।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় ১৮ বছর আগে পাড়েরহাটে ক্ষুদ্র পরিসরে শুঁটকির ব্যবসা শুরু হয়। এখানে কোরাল, লইট্টা, ছুরি, চিতল, হাইতা, মর্মা, ঢেলা, মধু ফ্যাপসা, চাপিলাসহ ৩০ থেকে ৩৫ প্রজাতির মাছের শুঁটকি তৈরি হয়। শীতে এসব মাছ বেশি ধরা পড়ে এবং এসময় আবহাওয়ায় অনুকূলে থাকায় শুঁটকির মান ভালো হয়। তাই শীত মৌসুমেই সবচেয়ে বেশি জমজমাট থাকে পল্লীটি। মাছের মান অনুযায়ী প্রতি কেজি শুঁটকি ৬০০ থেকে ২ হাজার টাকা দরে বিক্রি হয়।
শুঁটকি ব্যবসায়ীরা জানান, শুঁটকি তৈরি করতে তারা কোনো ধরনের ওষুধ বা কেমিক্যাল ব্যবহার করেন না। নিরাপদ ও প্রাকৃতিক পদ্ধতিতে তৈরি হওয়ায় এখানকার শুঁটকির চাহিদা বেশি।
চিথলিয়া গ্রামের ব্যবসায়ী আলী সরদার জানান, মৌসুমের শুরুতে পাড়েরহাট মৎস্য বন্দরে প্রচুর মাছ পাওয়া যায়। জেলেরা সরাসরি মাছ এনে বিক্রি করেন, সেখান থেকেই শুঁটকির জন্য মাছ সংগ্রহ করা হয়। ইলিশ ছাড়া প্রায় সব ধরনের মাছ দিয়ে শুঁটকি তৈরি করা হয়।
ব্যবসায়ী শাজাহান হাওলাদার বলেন, বর্তমানে এখানে প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিক কাজ করেন। তবে টিউবওয়েল, পর্যাপ্ত বিদ্যুতের ব্যবস্থা থাকলে ব্যবসা আরো ভালোভাবে পরিচালনা করা যেত। এখানে প্রতি বছর ১০০ টনের বেশি শুঁটকি উৎপাদন করা হয়, যার বাজারমূল্য প্রায় ৫ কোটি টাকা।
শুঁটকি শ্রমিক মো. ইব্রাহিম মুন্সি বলেন, এখানে কোনো কীটনাশক বা ক্ষতিকর উপাদান ব্যবহার করা হয় না। রোদে শুকিয়ে পরিষ্কারভাবে শুঁটকি তৈরি করা হয় বলেই এর চাহিদা বেশি।
স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ব্যবসায়ীরা সহজ শর্তে ঋণসহ সরকারি সহযোগিতা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন।
পিরোজপুর জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, শীত মৌসুমে প্রায় চার মাস এখানে শুঁটকি কার্যক্রম চলে এবং উৎপাদন পদ্ধতি নিরাপদ। মৎস্য অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে শ্রমিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি শুঁটকি উন্নয়ন প্রকল্পের প্রস্তাবনা রয়েছে, যা বাস্তবায়ন হলে তদারকি বাড়বে এবং এখানকার শুঁটকি দেশের বিভিন্ন স্থানে রপ্তানির সুযোগ তৈরি হবে।
দিবাকর/ ইন্দুরকানী


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









