আষাঢ়ের টানা ভারী বর্ষণে আবারও ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীতে। আজ সকাল থেকেই নগরীর আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, চান্দগাঁও, পতেঙ্গা ও কুয়াইশসহ বিভিন্ন এলাকার প্রধান সড়ক ও অলিগলি পানিতে তলিয়ে গেছে। বহু স্থানে বাসাবাড়ি এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে জনজীবন। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে সকালে কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বের হওয়া অফিসগামী যাত্রীরা। নগরে ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি ঝরেছে, সেই সঙ্গে সকালের জোয়ারে কয়েকটি স্থানে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।
রোববার সকাল থেকে শুরু হওয়া বৃষ্টি সোমবার অতি ভারি বর্ষণে রূপ নেয়। সোমবার দিনভর বৃষ্টির পর রাতেও চলেছে মুষলধারে। সেদিন সন্ধ্যার পর নগরীর দুয়েকটি স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। রাতভর টানা ভারি বৃষ্টির পর মঙ্গলবার সকালেও বৃষ্টির ধারা অব্যাহত রয়েছে।
পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানায়, মঙ্গলবার সকাল ৯টা পর্যন্ত শেষ ২৪ ঘণ্টায় ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
এতে নগরীর আগ্রাবাদ বাণিজ্যিক এলাকা, সিডিএ আবাসিক এলাকা, কাতালগঞ্জ, পাঁচলাইশ, কাপাসগোলা, চকবাজার, হালিশহর কে ও এল ব্লক, রামপুর, তিন পোলের মাথা, বাটালি রোডসহ কয়েকটি এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
জলাবদ্ধতার কারণে সকাল থেকে বিভিন্ন এলাকায় ভোগান্তিতে পড়েন নগরবাসী। সড়কে রিকশা ছাড়া অন্য যানবাহনের সংখ্যা দেখা গেছে খুবই কম। নগরীর কয়েকটি স্কুলের ক্লাস ও পরীক্ষা ‘বৈরী আবহাওয়ার’ কারণে স্থগিত ঘোষণা করা হয়।
সকালে কাতালগঞ্জ এলাকায় জলাবদ্ধতা পরিস্থিতি দেখতে গিয়ে সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “গতকাল সকাল থেকে যে ভারি বৃষ্টি শুরু হয়েছে তা এখনো থামেনি। প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে বৃষ্টি হচ্ছে। পুরো শহর গতকাল থেকে ঘুরে দেখেছি।
“হিজরা খালের কাজ এখনো ৩০ শতাংশ বাকি। বাঁধগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে বর্ষার কারণে। বাকি কাজ পরে করা হবে।”
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন আগ্রাবাদ, চকবাজার, বাকলিয়া, কাজির হাট, হালিশহর, চান্দগাঁও, সুন্নিয়া মাদ্রাসা রোড, আকমল আলী রোড, পতেঙ্গা ও কুয়াইশ এলাকার বাসিন্দারা। এসব এলাকার অনেক বাসা ও দোকানে পানি ঢুকে গৃহস্থালির জিনিসপত্র ও ব্যবসায়িক মালামালের ক্ষয়ক্ষতি হয়। চকবাজারের বিভিন্ন অলিগলিও পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষের চলাচল ব্যাহত হয়।
জলাবদ্ধতার কারণে অফিসগামী মানুষের দুর্ভোগ ছিল সবচেয়ে বেশি। সকাল থেকেই নগরীর বিভিন্ন মোড়ে যানজট দেখা দেয়। অনেককে প্যান্ট গুটিয়ে, জুতা হাতে নিয়ে পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে গন্তব্যে যেতে দেখা যায়। গণপরিবহন ও সিএনজিচালিত অটোরিকশার সংকটও দেখা দেয়। ফলে অনেক কর্মজীবী নির্ধারিত সময়ে কর্মস্থলে পৌঁছাতে পারেননি।
মেয়র বলেন, “আজকে প্রবর্তক মোড়, বহদ্দারহাট, মুরাদপুর, বাকলিয়াতে পানি নেই। আগ্রাবাদে গুলজার খালের কিছু কাজ বাকি আছে। আশা করি, কাজ শেষ হলে আর সেখানে পানি উঠবে না।”
ভারি বর্ষণে লালখান বাজারে দু-তিনটি বড় গাছ ভেঙে পড়েছে এবং বিমানবন্দর সড়কে একটি সড়ক ভেঙে গেছে বলেও জানান মেয়র শাহাদাত হোসেন।
চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উপ-প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা প্রণব কুমার শর্মা বলেন, “রাতে খুব বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সঙ্গে সকালের জোয়ার যোগ হয়েছে। যে পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে, সে পরিমাণ পানির ধারণ ক্ষমতা নালাগুলোর নেই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, জলাবদ্ধতা নিরসনে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়ন হলেও সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই নগরীর বিভিন্ন এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। এতে শুধু চলাচলই ব্যাহত হয় না, ব্যবসা-বাণিজ্য ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এদিকে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় চট্টগ্রাম অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নিচু এলাকায় জলাবদ্ধতা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নগরীর পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিসের কর্মকর্তা মাহমুদুল আলম বলেন, গতকাল সকাল ৯টা থেকে আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত ৩৩০ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে।
আমবাগান আবহাওয়া অফিসের অফিসার ইনচার্জ বিজন রায় বলেন, সকাল ৯টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ২৫৯ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী দুই থেকে তিনদিন বৃষ্টিপাত হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









