উজানের ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলের কারণে দ্রুত বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে নদীটির পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। এতে নীলফামারী, লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বিকেল ৬টায় নীলফামারীর ডালিয়া পয়েন্টে তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সেখানে পানির উচ্চতা রেকর্ড করা হয়েছে ৫২ দশমিক ০৩ মিটার, যেখানে বিপৎসীমা ৫২ দশমিক ১৫ মিটার।
বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সহকারী প্রকৌশলী মোস্তফা কামাল জিহানের স্বাক্ষরিত পূর্বাভাসে জানানো হয়, তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচে থাকলেও মঙ্গলবার সকাল ৯টার পর থেকে উজান ও স্থানীয় এলাকায় বৃষ্টিপাত শুরু হওয়ায় নদীগুলোর পানি দ্রুত বাড়ছে। আগামী তিন দিনে এই প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে।
ডালিয়া পয়েন্টের গেজ রিডার নুরুল ইসলাম জানান, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত ১২ ঘণ্টায় তিস্তার পানি ১৮ সেন্টিমিটার বেড়েছে। এর মধ্যে শুধু বিকেল ৩টা থেকে ৬টা পর্যন্ত তিন ঘণ্টায়ই পানি বেড়েছে ১৬ সেন্টিমিটার। সকাল ৬টা ও ৯টায় পানির উচ্চতা ছিল ৫১ দশমিক ৮৫ মিটার, দুপুর ১২টায় ৫১ দশমিক ৮৬ মিটার, বিকেল ৩টায় ৫১ দশমিক ৮৭ মিটার এবং বিকেল ৬টায় তা বেড়ে দাঁড়ায় ৫২ দশমিক ০৩ মিটারে।
তিস্তার ভাটির রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে মঙ্গলবার বিকেল ৬টায় নদীর পানি বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সেখানে পানির উচ্চতা ছিল ২৮ দশমিক ৬৮ মিটার, আর বিপৎসীমা ২৯ দশমিক ৩০ মিটার।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিতাভ চৌধুরী জানান, পরিস্থিতি মোকাবিলায় তিস্তা ব্যারাজের ৪৪টি জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। নদীতে কমলা সংকেত জারি করে সার্বক্ষণিক নজরদারি চালানো হচ্ছে।
এদিকে ভারতের সেন্ট্রাল ওয়াটার কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, উজানের জলপাইগুড়ির দো-মোহনী ও কোচবিহারের মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে তিস্তা নদীর জন্য হলুদ সংকেত জারি করা হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় দো-মোহনী পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার নিচে এবং বিকেল ৫টায় মেখলিগঞ্জ পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৫ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
বন্যা পূর্বাভাসে আরো বলা হয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। একই সময়ে ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানিও লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের কয়েকটি পয়েন্টে সতর্কসীমা স্পর্শ করতে পারে। এতে সংশ্লিষ্ট জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
উল্লেখ্য, চলতি বর্ষা মৌসুমে তিস্তা নদী প্রথমবার ২৩ জুন বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়েছিল। এরপর পানি নেমে গেলেও ২৮ জুন দ্বিতীয় দফায় বিপৎসীমার ১২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে প্রায় ১২ ঘণ্টা পর পানি আবারও বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। এবারও উজানের বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় তিস্তার পানি পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









