নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার একটি দাখিল মাদরাসার ১১টি মেহগনি গাছ উন্মুক্ত দরপত্র (টেন্ডার) ছাড়াই বিক্রির অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সুপারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর উপজেলা প্রশাসন তদন্ত কমিটি গঠন করেছে এবং বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার গোপীনাথপুর এনইউএস দাখিল মাদ্রাসার প্রায় ১৫ থেকে ২০ বছর বয়সী ১১টি মেহগনি গাছ ঈদুল আজহার ছুটির মধ্যে উন্মুক্ত দরপত্র ছাড়াই প্রায় ৯০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়। পাশের মামুদপুর গ্রামের এক কাঠ ব্যবসায়ী গাছগুলো কিনে ছুটির মধ্যেই কাটার কাজ শুরু করেন। এর মধ্যে সাতটি গাছ কাটা হয়।
ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় বাসিন্দারা গাছ সরিয়ে নিতে বাধা দেন এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। পরে প্রশাসনের হস্তক্ষেপে গাছ সরানোর কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, স্থানীয়দের বাধার কারণে কাটা গাছগুলো এখনো মাদরাসা প্রাঙ্গণে পড়ে রয়েছে। তবে কয়েকটি গাছ ইতোমধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে রয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, গাছগুলোর বাজারমূল্য অন্তত দুই থেকে আড়াই লাখ টাকা হতে পারে। তাদের অভিযোগ, প্রকৃত মূল্যের তুলনায় অনেক কম দামে গাছ বিক্রি দেখিয়ে আর্থিক অনিয়মের চেষ্টা করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে মাদরাসার ভারপ্রাপ্ত সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গাছ কাটা হয়েছে। তবে এ ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন বা উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হয়নি। তিনি কম মূল্যে গাছ বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেন।’’
পরিচালনা কমিটির সভাপতি মো. আবুল হোসেন বলেন, ‘‘মাদ্রাসার সীমানাপ্রাচীর নির্মাণ ও উন্নয়নকাজে গাছগুলো বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তাই পরিচালনা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেগুলো বিক্রির উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে এখন পর্যন্ত কাঠ ব্যবসায়ীর কাছ থেকে কোনো অর্থ গ্রহণ করা হয়নি। কাটা সাতটি গাছও মাদরাসা প্রাঙ্গণেই রয়েছে। গাছ বিক্রির অর্থ প্রতিষ্ঠানটির উন্নয়ন তহবিলে জমা দিয়ে মাঠ ও অন্যান্য উন্নয়নকাজে ব্যয় করার পরিকল্পনা ছিল।’’
গুরুদাসপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহমিদা আফরোজ বলেন, ‘‘লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে এবং আসন্ন উপজেলা সমন্বয় সভায় আলোচনা শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









