বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহিনকে ‘ফ্যাসিবাদের দোসর’ আখ্যা দিয়ে অপপ্রচার, দায়িত্ব পালনে বাধা এবং তাকে ঘিরে ‘মব’ সৃষ্টির ঘটনার প্রতিবাদে মানববন্ধন করেছে বরিশালের সচেতন নাগরিক সমাজ। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করে জনস্বার্থে স্বাস্থ্যসেবার স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
শনিবার (১১ জুলাই) নগরীতে আয়োজিত এ মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, পেশাজীবী ও রাজনৈতিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বক্তারা অভিযোগ করেন, একটি স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে। এর ফলে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত ৮ জুলাই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে দপ্তরে গেলে ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহিনকে ‘ফ্যাসিস্ট’ আখ্যা দিয়ে তার দায়িত্ব গ্রহণে বাধা দেওয়া হয়। পরে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে তাকে দপ্তর ত্যাগ করতে বাধ্য করা হয়। তারা এ ঘটনাকে শুধু একজন সরকারি কর্মকর্তার প্রতি অবমাননাই নয়, বরং রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক শৃঙ্খলার ওপর সরাসরি আঘাত বলে মন্তব্য করেন।
বক্তাদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগকে ঘিরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তার পেছনে বিএনপি সমর্থিত চিকিৎসকদের সংগঠন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) এর অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক পদে ডা. মনিরুজ্জামানের নিয়োগকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির একটি অংশ বিরোধিতা করলেও অপর অংশ তার নিয়োগ বহালের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এই সাংগঠনিক বিভাজনের প্রভাব সরকারি স্বাস্থ্য প্রশাসনের ওপর পড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
জানা গেছে, শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সাবেক উপপরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান শাহিনকে গত ৫ জুলাই সরকার বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়। পরদিন ৬ জুলাই তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেন। অভিযোগ রয়েছে, দায়িত্ব গ্রহণের দুই দিনের মাথায়, ৮ জুলাই শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কয়েকজন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে ড্যাবের একাংশের নেতারা পরিচালকের কার্যালয়ে যান। এ সময় সেখানে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলে একপর্যায়ে তাকে দপ্তর ছাড়তে বাধ্য করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, ব্যক্তি বা সংগঠনের অভ্যন্তরীণ বিরোধের জেরে কোনো সরকারি কর্মকর্তাকে প্রকাশ্যে হেনস্তা করা এবং তার দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান।
বক্তারা আরও বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগের প্রশাসনিক কার্যক্রমে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে এর সবচেয়ে বড় ভুক্তভোগী হবেন সাধারণ মানুষ। তাই জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত বিরাজমান সংকটের অবসান, প্রশাসনিক স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং নিরবচ্ছিন্ন স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বরিশাল বিভাগীয় সদস্য সচিব ডা. মিজানুর রহমান, ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক তুহিন আরাফাত, শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মো. মনিরুজ্জামান, ছাত্রদল নেতা আব্দুল্লাহ আল জাহিদ, ড্যাব নেতা ডা. আনোয়ার হোসেন, নার্সেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মমতাজ পারভিন, বরিশাল মহানগর যুবদলের আইনবিষয়ক সম্পাদক মো. জাকির হোসেন মিন্টুসহ বিভিন্ন পেশাজীবী, সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









