টানা ভারী বর্ষণে বান্দরবানের লামা উপজেলার চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের চারতলা একাডেমিক ভবনটি চরম পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে পড়েছে। ভবনের গোড়ার মাটি ধসে বাউন্ডারি দেয়ালসহ প্রায় ৩০ ফুট নিচে নেমে গেছে বর্তমানে ভবনটির নিচে মাত্র দুই হাতের মতো মাটি অবশিষ্ট রয়েছে। ফলে যেকোনো মুহূর্তে প্রায় ৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল ভবনটি ধসে পড়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। এতে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম, আর চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকেরা।
শনিবার (১১ জুলাই) সরেজমিনে দেখা যায়, টানা বৃষ্টির কারণে পাহাড়ের মাটি নরম হয়ে ভবনের চারপাশের প্রতিরক্ষা দেয়াল (বাউন্ডারি ওয়াল) ও মাটি ধসে ৩০ ফুট নিচে খাদে পড়ে গেছে। ভবনের মূল ভিত্তি বা গোড়ার মাটি সরে যাওয়ায় পুরো ৪ তলা কাঠামোটি এখন শূন্যে ঝুলে থাকার মতো বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।
শুধু তা-ই নয়, এই পাহাড়ের নিচে রয়েছে অসংখ্য বসতবাড় ভবনটি ধসে পড়লে একদিকে যেমন বিপুল পরিমাণ সরকারি সম্পদের ক্ষতি হবে ও শিক্ষা কার্যক্রম থমকে যাবে, অন্যদিকে পাহাড়ের পাদদেশে থাকা পরিবারগুলোর ওপর ধসে পড়ে ব্যাপক প্রাণহানির আশঙ্কাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সৈয়দ তৌহিদুর রহমান গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, "ভবনটি এখন মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। এমন ঝুঁকির মধ্যে সন্তানদের কলেজে পাঠাতে আমরা চরম আতঙ্কে ভুগছি।"
প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষ আবু হানিফ জানান, "ভবনটি রক্ষায় বিগত অর্থবছরে আমরা বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদে ৫০ লাখ টাকা বাজেটের একটি গাইড ওয়াল (প্রতিরক্ষা দেয়াল) নির্মাণের আবেদন করেছিলাম। জেলা পরিষদের প্রকৌশলী এসে স্থানটি পরিদর্শনও করে গেছেন, কিন্তু অজানা কারণে প্রকল্পটি আর আলোর মুখ দেখেনি।"
তিনি আরও জানান, বর্তমান ঝুঁকি এড়াতে আপাতত শিক্ষার্থীদের ওই ভবন থেকে সরিয়ে অন্য ভবনে নিয়ে পাঠদান চালু রাখা হয়েছে।
এ বিষয়ে আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক হোসেন মহরম বলেন, "এটি প্রায় এক হাজার শিক্ষার্থীর একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান এভাবে প্রধান একাডেমিক ভবনটি ঝুঁকিতে থাকলে এবং শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হলে শিক্ষার্থীদের বোর্ড পরীক্ষার ফলাফলে বড় বিপর্যয় ঘটতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত অনতিবিলম্বে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া।"
বান্দরবান জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার জসিম উদ্দিন বলেন, "কলেজের অধ্যক্ষ আমাকে বিষয়টি টেলিফোনে জানিয়েছেন। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে অবহিত করেছি। আপাতত যেকোনো দুর্ঘটনা এড়াতে ওই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে কোনো ধরনের ক্লাস বা শিক্ষা কার্যক্রম না চালানোর জন্য কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।"


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









