পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার অন্যতম দর্শনীয় স্থান সদর ইউনিয়নের আরজবেগী ব্লকপাড়কে আরও পরিচ্ছন্ন ও পর্যটনবান্ধব হিসেবে গড়ে তুলতে পরিদর্শন ও নিজ হাতে পরিষ্কার করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মোঃ মাহমুদ হাসান মৃধা।
শনিবার (১১ জুলাই) দুপুরে উপজেলা প্রশাসন ও সাইক্লোন প্রিপেয়ার্ডনেস প্রোগ্রাম (সিপিপি)-এর সদস্যদের উদ্যোগে সদর ইউনিয়নের আরজবেগী সৈয়দ জাফর গোলক পারে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
স্থানীয়দের কাছে আরজবেগী ব্লকপাড় "মিনি কুয়াকাটা নামে পরিচিত। এটি দশমিনা উপজেলার মানুষের অন্যতম আনন্দ-বিনোদনের প্রাণকেন্দ্র। প্রতিদিন, বিশেষ করে বিকেলবেলায় পরিবার-পরিজন নিয়ে শত শত মানুষ নদীর মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে এখানে ভিড় করেন। এছাড়া ঈদ, পূজা, নববর্ষসহ বিভিন্ন জাতীয় ও বিশেষ দিবসে এ স্থানটি দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে।
তবে জনপ্রিয় এই পর্যটনস্থলে এখনো পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা গড়ে ওঠেনি। নেই কোনো আধুনিক ওয়াশরুমের ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত বসার স্থান কিংবা প্রয়োজনীয় অবকাঠামো। বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার অভাবে এখানে স্থায়ী দোকানপাটও গড়ে ওঠেনি। ফলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থীরা নানা ধরনের সমস্যার সম্মুখীন হন।
এ অবস্থায় উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পরিচালিত পরিচ্ছন্নতা অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন স্থানীয়রা ইউএনও মাধ্যমে প্রতিমন্ত্রীর কাছে দাবি জানিয়ে জানান, তারা আরজবেগী ব্লকপাড়ে স্থায়ী বেরিবাধ পরিকল্পনা করা, স্থায় পরিচ্ছন্নতাকর্মী নিয়োগ,আধুনিক ওয়াশরুম, বসার ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত ডাস্টবিন,ল্যাম পোস্ট বসার বেঞ্চ, নিরাপদ পানির পান করানোর জন্য একটি টিউবল, একটি দৃষ্টিনন্দন মসজিদ দোকানপাটসহ প্রয়োজনীয় পর্যটন সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান তার।
তাদের মতে, পরিকল্পিত উন্নয়ন করা হলে, মিনি কুয়াকাটা খ্যাত আরজবেগী ব্লকপাড় দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে আরও সমৃদ্ধ হয়ে উঠবে।
এ সময় পরিছন্নতা কার্যক্রমে অংশ নেন,দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাহমুদ হাসান মৃধা, ঢাকা মহানগর উত্তর গণধিকার পরিষদের সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান হাওলাদার, দশমিনা উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব শাহ আলম শানু, উপজেলা গণধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদক লিয়ার হোসেন হাওলাদার, সাংগঠনিক সম্পাদক মিলন মাতুব্বর সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সিপিপির সদস্য এবং এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহমুদ হাসান মৃধা বলেন, “দশমিনা উপজেলায় সাধারণ মানুষের জন্য উল্লেখযোগ্য কোনো বিনোদন বা পর্যটনকেন্দ্র নেই। তাই এই স্থানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পর্যটন সম্ভাবনা বিবেচনায় স্থানীয়দের দাবির আলোকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে একটি প্রস্তাব পাঠানো হবে। পরিকল্পিত উন্নয়নের মাধ্যমে এলাকাটিকে একটি আকর্ষণীয় মিনি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি এই এলাকার পরিচ্ছন্নতা, নিরাপত্তা ও পরিবেশ রক্ষায় স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা প্রয়োজন। মাদক ও অপরাধ দমনে প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আজকের পরিচ্ছন্নতা অভিযানে অংশ নিয়ে এখানকার সুন্দর ও মনোরম পরিবেশ দেখে আমরা সত্যিই মুগ্ধ হয়েছি।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









