বরিশালের পরিবহন শ্রমিক সংগঠনে স্বজনপ্রীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার, গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন এবং আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংবাদ সম্মেলন করেছেন বরিশাল জেলা বাস, মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক মো. আবুল কালাম চৌধুরী। তিনি দাবি করেছেন, পরিকল্পিতভাবে তাকে দায়িত্ব থেকে অপসারণ করে সংগঠনের নিয়মবহির্ভূতভাবে অন্য একজনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১১জুলাই) দুপুরে বরিশাল রিপোর্টার্স ইউনিটির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আবুল কালাম চৌধুরী। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, ২০২৫ সালের ত্রি-বার্ষিক নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই সংগঠনের গঠনতন্ত্র উপেক্ষা করে এবং ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে তাকে পদচ্যুত করা হয়।
তিনি দাবি করেন, বরিশাল বিভাগীয় সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের সভাপতি ও মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব মো. জিয়া উদ্দিন সিকদার তার ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে নিজের শ্যালককে শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে বসিয়েছেন। অথচ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি পরিবহন শ্রমিক নন বলেও সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করেন তিনি।
আবুল কালাম চৌধুরী বলেন, সংগঠন থেকে অপসারণের পর তিনি চালকের চাকরিও হারিয়েছেন। এতে পরিবার নিয়ে চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ বিষয়ে তিনি শ্রম অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিলের পাশাপাশি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন বলেও জানান।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও অভিযোগ করেন, বরিশালের রূপাতলী কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে বিভিন্ন পরিবহন থেকে কমিশনের নামে নিয়মিত অর্থ আদায় করা হলেও সেই অর্থ শ্রমিক ও মালিকদের কল্যাণে ব্যয় করা হচ্ছে না। বরং এসব অনিয়মের প্রতিবাদ করলে সংশ্লিষ্টদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে এবং অনেক ক্ষেত্রে তাদের পরিবহন চলাচলেও বাধা দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
লিখিত বক্তব্যে আবুল কালাম চৌধুরী তার বিরুদ্ধে নেওয়া সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে পুরো ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন। একই সঙ্গে নির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে তাকে পুনর্বহাল, অভিযোগের সুষ্ঠু বিচার এবং পরিবহন খাতে কথিত অনিয়ম ও আর্থিক দুর্নীতির বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









