মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার পৃথিমপাশা ইউনিয়নের শিকড়িয়া সীমান্ত এলাকায় বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তবর্তী আঞ্চলিক সড়কের (বাঁধ) ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দীর্ঘদিন ধরে মেরামত না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতা ও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিএসএফ) আপত্তির কারণে বাঁধটি পুনর্নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে বর্তমানে ভাঙা স্থানে বাঁশের সাঁকোই তাদের চলাচলের একমাত্র ভরসা।
টানা বৃষ্টিপাত ও ভারতের সীমান্তবর্তী পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা ঢলে মনু নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় কুলাউড়ার নদীতীরবর্তী এলাকায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রাজাপুর ও শিকড়া গ্রামের বেড়িবাঁধ। এতে স্থানীয়দের মধ্যে চরম উদ্বেগ বিরাজ করছে।
বুধবার (৮ জুলাই) গভীর রাত থেকে ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা দিয়ে নেমে আসা ঢলে শিকড়া গ্রামের সড়কের একটি অংশ ভেঙে যায়। এতে পানি দ্রুত লোকালয়ে প্রবেশ করে শিকড়া, রাজাপুরসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রাম প্লাবিত হয়। দুর্ভোগে পড়েন শতাধিক পরিবার।
স্থানীয়দের দাবি, ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় মনু নদীর উজানের প্রবল স্রোতে এই বাঁধটি প্রথম ভেঙে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সীমান্তসংক্রান্ত জটিলতা ও বিএসএফের বাধার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি আর মেরামত করা হয়নি। ফলে প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে তাদের।
শনিবার (১২ জুলাই) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভাঙা অংশে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেছেন। ঝুঁকি নিয়েই নারী, শিশু, প্রবীনসহ এলাকাবাসীদের ওই সাঁকো ব্যবহার করতে হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা ভুক্তভোগী। ২০২৪ সালের বন্যায় আমাদের একমাত্র যাতায়াতের সড়কটি ভেঙে যায়। এরপর থেকে আজ পর্যন্ত সেটি আর সংস্কার হয়নি। এবারও বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি, ফসল ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অসুস্থ রোগীদের হাসপাতালে নেওয়াও অত্যন্ত কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে। আমরা সরকারের কাছে দ্রুত বাঁধ নির্মাণের জোর দাবি জানাচ্ছি।
বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার। এ সময় তিনি জানান, সরকারের পক্ষ থেকে বন্যাদুর্গত এলাকায় ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের বাঁধ দ্রুত পুনর্নির্মাণের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









