কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে হত্যার ঘটনায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ১০/১২ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দিবাগত রাতে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় হত্যা মামলার লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
মামলার এজাহারে উল্লেখিত তিন আসামীর মধ্যে মো. হেলাল (২৪) ঘটনার দিন রাতেই স্থানীয় লোকজনের হাতে আটক হয়।
পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই রাতেই মহিন উদ্দিন (৩২) ও মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল (২৭) নামে আরও দুজনকে আটক করে।
লিখিত এজাহারে মো. হেলাল বরগুনা জেলার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের পুত্র, মহিন উদ্দিন লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের পুত্র এবং মো. শাহিন আলম ওরফে শাকিল লক্ষ্মীপুর জেলার রামগঞ্জ উপজেলার মধ্যপাড়া গ্রামের মো. রহমত উল্লাহ খোকনের পুত্র হিসাবে উল্লেখ করা হয়।
বাদী তসলিমা আক্তার চৌধুরী লিখিত এজাহারে উল্লেখ করেন, গত বুধবার (১৫ জুলাই) রাত পৌনে দশটার দিকে মিঠামইন উপজেলা সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় তার বাসার সামনে বিএনপির সভাপতি জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত করে দুর্বৃত্তরা। আশংকাজনক অবস্থায় জেলা সদরে শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নেয়ার পর কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার হোসেন লিখিত এজাহার প্রাপ্তির বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “আটক আসামীদের জেলা সদরে আদালতে প্রেরণের প্রস্তুতি চলছে। সেই সাথে হত্যাকান্ডের মূল কারণ উদঘাটনসহ ঘটনার সাথে জড়িত অন্যান্য আসামীদের আইনের আওতায় আনতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”
গতকাল শুক্রবার দুপুরে জুমা নামাজের পর স্থানীয় হেলিপ্যাড মাঠে অনুষ্ঠিত জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের জানাযার নামাজে অংশগ্রহণ করেন পাট ও বস্ত্র প্রতিমন্ত্রি এবং জেলা বিএনপির সভাপতি মোঃ শরীফুল আলম।
এছাড়াও কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাজহারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানসহ বিপুল সংখ্যক দলীয় নেতা-কর্মী ও স্থানীয় লোকজন জানাযায় অংশগ্রহণ করেন। জানাযা শেষে কাঠ বাজার সংলগ্ন পারিবারিক গোরস্তানে জাহিদুল আলম জাহাঙ্গীরের দাফন সম্পন্ন হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









