আওয়ামী লীগ সরকার জাতীয় জুটমিলকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করেছে বলে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সমালোচনা করে তিনি বলেন, সমাজের নিকৃষ্ট মানুষরাই আওয়ামী লীগ করে, কোনো ভদ্রলোক এই দল করতে পারে না। আমরা ভদ্রতা করি এবং করতে জানি। কিন্তু তারা কী করেছে? আমার বাড়ির সামনে দিয়ে মহড়া দিয়েছে আর বকাবকি করেছে। এটাই তাদের সাথে আমাদের মূল পার্থক্য।
শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে সিরাজগঞ্জের মিরপুরে তাঁত প্রশিক্ষণকেন্দ্র ও বেসিক সেন্টারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, “শুনতেছি আওয়ামী লীগের মাস্তানরা নাকি আবার হুমকি দিচ্ছে। দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে কিছুটা আত্মসমালোচনামূলক সুরে তিনি বলেন, দোষ আমাদেরও আছে, কারণ আমরা আমাদের ঐক্য ধরে রাখতে পারিনি।”
তিনি আরও বলেন, “প্রধানমন্ত্রী দেশ গঠনে কঠোর পরিশ্রম করছেন এবং তিনি নিজেও শুক্র-শনিবারে কাজ করেন। সবাই মিলে এখন দেশটাকে টেনে তোলার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।”
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম অভিযোগ করেন যে, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশের জুট মিল, তাঁত মিলসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ করে ব্যাপক লুটপাট চালানো হয়েছে। তবে বন্ধ হয়ে যাওয়া এসব শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায় চালুর জন্য বর্তমান সরকার ইতিমধ্যে উদ্যোগ নিয়েছে এবং এ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের কথা উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “বিগত দিনে তিনি গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে শতাধিক রাজনৈতিক মামলা দেওয়া হয়েছিল। তবে সব বাধা পেরিয়ে গ্রাম উন্নত করা ও গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করাই এখন সরকারের মূল লক্ষ্য।”
তাঁতশিল্পের প্রসারে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, “সিরাজগঞ্জের বেসিক সেন্টারকে একটি আধুনিক প্রশিক্ষণকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতিমধ্যে তাঁতশিল্পের প্রসারে জেলায় প্রায় ৬৫ কোটি টাকার ঋণ বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে তাঁতিদের আরও আর্থিক ও কারিগরি সহযোগিতা দেওয়া হবে।”
এছাড়া কৃষকদের কল্যাণে কোটি কোটি টাকার কৃষিঋণ পরিশোধ করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি গ্রামাঞ্চলে নতুন উদ্যোক্তা তৈরি ও স্থানীয় অর্থনীতি শক্তিশালী করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানান।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু, সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) আমিনুল ইসলাম এবং পুলিশ সুপার (এসপি) সাইফুল ইসলাম সানতুসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









