পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার একদন্ত ইউনিয়নের গুরুবাসী গ্রামের উদ্যোক্তা কৃষক হাসান মো. সাইফুজ্জামান হিরুর গড়ে তোলা বাণিজ্যিক খেজুর বাগান পরিদর্শন করেছেন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না। এ অঞ্চলে বিদেশি জাতের খেজুর চাষের সম্ভাবনা দেখতে সম্প্রতি তিনি সরেজমিনে বাগানটি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে তিনি বাগানের বিভিন্ন জাতের খেজুর গাছ, ফলন, পরিচর্যা পদ্ধতি ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখেন। এ সময় তিনি উদ্যোক্তা কৃষকের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং বাগানের উন্নয়নে প্রয়োজনীয় কারিগরি পরামর্শ দেন।
সরেজমিনে জানা গেছে, ২০২২ সালে শখের বশে মাত্র চারটি খেজুর গাছ রোপণের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেন হাসান মো. সাইফুজ্জামান হিরু। বর্তমানে ৩৩ শতাংশ জমিতে প্রায় ৬০টি বিদেশি জাতের খেজুর গাছ নিয়ে তিনি একটি দৃষ্টিনন্দন বাণিজ্যিক বাগান গড়ে তুলেছেন। বাগানটিতে সৌদি আজওয়া, মরিয়ম, মেজুল, বারহি ও শুক্কারিসহ বিভিন্ন উন্নত জাতের খেজুর রয়েছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ গাছে ফল এসেছে, যা এ অঞ্চলে বিদেশি জাতের খেজুর চাষের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
উদ্যোক্তা কৃষক হাসান মো. সাইফুজ্জামান হিরু বলেন, “উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার সরেজমিন পরিদর্শন ও মূল্যবান পরামর্শ আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করেছে। ভবিষ্যতে বাগানটি আরও সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি বিদেশি জাতের খেজুর চাষে অন্য কৃষকদেরও উদ্বুদ্ধ করতে চাই।”
পরিদর্শন শেষে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদা মোতমাইন্না বলেন, “বিদেশি জাতের খেজুর চাষ এ অঞ্চলে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় উদ্যোগ। উদ্যোক্তা কৃষক হিরু অত্যন্ত যত্ন ও পরিকল্পনার সঙ্গে বাগানটি গড়ে তুলেছেন। সঠিক পরিচর্যা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুসরণ করলে এ উদ্যোগ আরও লাভজনক হবে। কৃষি বিভাগ সবসময় এ ধরনের উদ্ভাবনী ও সম্ভাবনাময় উদ্যোগের পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে।”
পরিদর্শনকালে আরও উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা আব্দুল হাই, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা জাহিদুল হক, উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা লতা এবং স্থানীয় প্রগতিশীল কৃষকেরা। স্থানীয় চাষিদের মতে, কৃষি বিভাগের এমন মাঠপর্যায়ের তদারকি ও দিকনির্দেশনা নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে বড় উৎসাহ জোগাবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









