সুপ্রিম কোর্টের প্রখ্যাত আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী জেড আই খান পান্নার মেয়ে অ্যাডভোকেট নাদিমা মোহাম্মদী খানের (৩৯) উপর হামলার ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে বরিশালের কোতোয়ালি মডেল থানায় মামলা দায়েরের পর একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরআগে, শনিবার (১৮ জুলাই) রাতে বরিশাল নগরীর সদর রোডে জেড আই খান পান্নার পারিবারিক বাসভবনে এই হামলার ঘটনা ঘটে। পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা ও চাঁদা দাবির জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে অভিযোগ করা হয়।
আহত ও চিকিৎসাধীন আইনজীবী নাদিমা মোহাম্মদী খান জানান, শনিবার তিনি তার চাচাতো বোনসহ বরিশাল নগরীর সদর রোডের পারিবারিক বাড়িতে আসেন। সেখানে এসে দেখতে পান কিছু যুবক বাড়ির ভেতর আবর্জনা ফেলে নোংরা করে রেখেছে। মূলত দীর্ঘদিন ধরে ওই যুবকেরা সেখানে মাদকসেবন ও মাদক কারবার চালিয়ে আসছিল।
ঘটনার বিবরণ দিয়ে নাদিমা বলেন, ‘‘আমরা বাড়ির ভেতর মাদক কারবার ও আবর্জনা ফেলার প্রতিবাদ করলে ওই যুবকদের সাথে আমাদের কথা-কাটাকাটি হয়। এর একপর্যায়ে ২৫ থেকে ৩০ জন সংঘবদ্ধ হয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। জীবন বাঁচাতে আমি তাৎক্ষণিকভাবে জাতীয় জরুরি সেবা ‘৯৯৯’-এ ফোন করে পুলিশের সহায়তা চাই।’’
হামলায় গুরুতর আহত অবস্থায় নাদিমা মোহাম্মদী খানকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
মামলার এজাহারে নাদিমা মোহাম্মদী খান অভিযোগ করেছেন, এই হামলার পেছনে তার চাচা নজরুল ইসলাম খানের উসকানি ও প্রশ্রয় রয়েছে। পৈতৃক সম্পত্তি থেকে বঞ্চিত করা এবং গ্রামের বাড়িতে যাওয়া ঠেকাতেই মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের লেলিয়ে দিয়ে এই হামলা চালানো হয়েছে। একই সাথে হামলাকারীরা তার কাছে ১০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়।
রবিবার সকালে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় নাদিমা বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলায় তার চাচা নজরুল ইসলাম খানসহ ৫ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা ২৫-৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এজাহারভুক্ত অন্য আসামিদের মধ্যে রয়েছেন রেজাউল ইসলাম সাব্বির ও জাহিদুল ইসলাম রাজু।
বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল মামুন উল ইসলাম জানান, মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের মধ্যে ‘চাঁদনী’ নামে এক নারীকে ইতিমধ্যে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম মাঠে কাজ করছে।
বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের (বিএমপি) ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. হান্নান বলেন, ‘‘একজন আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মীর পরিবারের ওপর হামলার ঘটনাটি আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। আসামিদের দ্রুত আইনের আওতায় আনতে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মাঠে নেমেছে। এই অপরাধের সাথে জড়িত কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









