বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শহীদ মো. জিহাদ হোসেনের দ্বিতীয় শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় কবর জিয়ারত ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ কর্মসূচিতে বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়ে শহীদ জিহাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শনিবার (১৯ জুলাই) সকাল ১১টায় উপজেলা বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও কলেজ ছাত্রদলের উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিদ্দিক আহমেদ মোল্লার নেতৃত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নেতাকর্মীরা শহীদ জিহাদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁর রূহের মাগফিরাত কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আতিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক ইসমাইল মেলকার, সদস্য সচিব শাহ আলম শানু, শহীদ জিহাদের পিতা নুরুল আমিন মোল্লা, উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক আবুল বাশার, সদস্য সচিব সালাউদ্দিনসহ বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
কর্মসূচির শুরুতে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ শহীদ জিহাদের কবর জিয়ারত করেন। পরে তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কোরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় উপস্থিত সবাই জুলাই আন্দোলনে নিহত শহীদদের স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান।
শহীদ মো. জিহাদ হোসেন পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা সদরের মোল্লাপট্টি এলাকার বাসিন্দা। তিনি নুরুল আমিন মোল্লা ও শাহিনুর বেগম দম্পতির কনিষ্ঠ সন্তান। পরিবার ও স্বজনদের কাছে তিনি ছিলেন শান্ত স্বভাবের, মেধাবী ও সম্ভাবনাময় একজন তরুণ।
জানা যায়, জিহাদ ২০১৬ সালে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে বিজ্ঞান বিভাগে এসএসসি এবং ২০১৮ সালে ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে সরকারি কবি নজরুল কলেজের ইতিহাস বিভাগ থেকে স্নাতক সম্পন্ন করে একই বিভাগে স্নাতকোত্তর অধ্যয়নরত ছিলেন।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে জিহাদও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে অংশ নেন। ১৯ জুলাই ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকার দনিয়া কলেজ ও কাজলা ফুটওভার ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় আন্দোলন চলাকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন।
গুরুতর আহত অবস্থায় সহপাঠীরা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে স্থানীয় হাসপাতালে এবং পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে নিজ এলাকা দশমিনাসহ বিভিন্ন স্থানে শোকের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। পরে তাঁর মরদেহ গ্রামের বাড়িতে আনা হয় এবং জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দোয়া মাহফিলে বক্তারা বলেন, শহীদ জিহাদসহ জুলাই আন্দোলনের সব শহীদের আত্মত্যাগ জাতি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাদের আত্মত্যাগ দেশের মানুষের অধিকার, ন্যায়বিচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হয়ে থাকবে।
বক্তারা শহীদ জিহাদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং তার আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। একই সঙ্গে আহতদের দ্রুত সুস্থতা ও দেশ-জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্বে শহীদ জিহাদের কবরের পাশে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাঁর আত্মত্যাগকে চিরস্মরণীয় রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









