ঝড়ের আশঙ্কা কমে যাওয়ায় দেশের চার সমুদ্রবন্দরে জারি থাকা স্থানীয় ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত প্রত্যাহার করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। তবে, নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এদিকে, ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়তে থাকায় ১০টি জেলার নদীসংলগ্ন চর ও নিম্নাঞ্চলে ফের স্বল্পমেয়াদি বন্যার আভাস দিয়েছে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র। জেলাগুলো হচ্ছে- লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল। অন্যদিকে বর্তমানে বরিশাল বিভাগে সরাসরি কোনো বন্যা পরিস্থিতি না থাকলেও অমাবস্যা, বাতাসের অতিরিক্ত গতিবেগ এবং বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে নদ-নদীগুলোর পানি বাড়ছে। এতে উপকূলীয় জেলা বরিশাল, ভোলা ও বরগুনার নিচু এলাকাগুলোতে জোয়ারের সময় সাময়িক জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।
নদীবন্দরগুলোতে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত
গতকাল রবিবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ঝড় সতর্কীকরণ কেন্দ্রের আবহাওয়া পরিস্থিতিবিষয়ক বার্তায় চার সমুদ্রবন্দরকে সংকেত নামিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সর্বশেষ আবহাওয়া পরিস্থিতি বিবেচনায় চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরগুলোর সতর্ক সংকেত নামিয়ে ফেলতে হবে। গত শনিবার উত্তর-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্যে সমুদ্রবন্দর, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে বলে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত বহাল রাখতে বলেছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।
তবে আবহাওয়াবিদ এ কে এম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, নোয়াখালী, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও সিলেট অঞ্চলের ওপর দিয়ে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫ থেকে ৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
গত সপ্তাহে টানা আটদিনের ভয়াবহ বন্যার পর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি হবিগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও সিলেট (একাংশ) জেলায় ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। ওই জেলাগুলোতে অতিবৃষ্টি ও পাহাড়িঢলে সৃষ্ট বন্যা ও পাহাড়ধসে প্রাণহানি ঘটেছে ৫৯ জনের, আহত হয়েছেন আরও ৪০ জন।
নদ-নদীর পানি আরও বেড়েছে
ভারি বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদ-নদীর পানি বাড়ছে। আজ সোমবার থেকে আগামীকাল মঙ্গলবারের মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি পয়েন্টে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর, গাইবান্ধা ও কুড়িগ্রাম জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে আকস্মিক বা স্বল্পমেয়াদি বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
গতকাল রবিবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের বন্যা পরিস্থিতি ও পূর্বাভাসে বলা হয়, সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আজ সোমবার ও আগামীকাল মঙ্গলবার দেশের রংপুর ও সিলেট বিভাগ এবং ভারতের আসাম, মেঘালয় ও পশ্চিমবঙ্গ অঞ্চলে ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টিপাত হতে পারে। এর প্রভাবে আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি আরও বাড়তে পারে।
ওই দিনের মধ্যে নদী দুটির কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে অথবা বিদ্যমান বন্যা পরিস্থিতি স্থিতিশীল থাকতে পারে। এদিকে সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি স্থিতিশীল থাকলেও যমুনা নদীর পানি বেড়েছে। আগামী শুক্রবার পর্যন্ত এই ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। আজ সোমবার থেকে আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার কিছু স্থানে ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদীর পানি সতর্ক সীমায় পৌঁছাতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলের কোথাও কোথাও প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রতিবেদন অনুসারে, উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সারিগোয়াইন, যাদুকাটা ও কংস নদীর পানি স্থিতিশীল থাকলেও সোমেশ্বরী ও ভুগাই নদীর পানি বেড়েছে। আগামীকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব নদীর পানি আরও বাড়তে পারে। আজ সোমবার থেকে আগামী বুধবারের মধ্যে নেত্রকোণা জেলার সোমেশ্বরী নদীর কিছু স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। এছাড়া উত্তরাঞ্চলের আপার করতোয়া, আপার আত্রাই, টাঙ্গন, পুনর্ভবা, মহানন্দা ও যমুনেশ্বরী নদীর পানি বেড়েছে। আগামী মঙ্গলবার পর্যন্ত এসব নদীর পানিও আরও বাড়তে পারে বলেও জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
বরিশালে সতর্কতা
পানি উন্নয়ন বোর্ডের দেওয়া তথ্যমতে, বরিশাল অঞ্চলের প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি বা কোনো কোনো স্থানে নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুসারে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না থাকলেও নিচু এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









