কারিগরি শিক্ষার প্রসার, দক্ষ জনশক্তি তৈরি এবং দেশের টেক্সটাইল শিল্পে কর্মসংস্থানের সুযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে নির্মাণ করা হয়েছে টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট। সরকারের অর্থায়নে নির্মিত প্রতিষ্ঠানটির ভবনসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর কাজ অনেক আগেই সম্পন্ন হয়েছে। কিন্তু দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হলেও এখনো শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়নি। ফলে আধুনিক এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা যায়, টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট কাজ ২০২৩ সালে অক্টোবর মাসে শুরু হয়ে ২০২৫ সালের জুনে মাস শেষ হয়। এই প্রতিষ্ঠানে জায়গা সহ সব মালামাল বাবদ ২৫ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। কিছু আগে বিল্ডিং হস্তান্তর করা হয়েছে, জনবল নিয়োগ হওয়া শেষে দিকে এটা চলমান আছে, এখনো পদ নির্ধারন হয় নাই নির্ধারন হলে নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। প্রতিষ্ঠানটি অনুমোদন পেয়েছে। ২০২৭ সালের জানুয়ারী থেকে ছাত্র ভর্তি হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদন হয়ে গেছে। এখনো অধিদপ্তর থেকে জনবলের চাহিদা দেওয়া হয় নাই।
সরজমিনের গিয়ে দেখা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভবনটি ব্যবহার না হওয়ায় বিভিন্ন স্থানে ধুলাবালি জমেছে এবং নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ভবিষ্যতে অবকাঠামোর ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে। দামি মালামালের উপর ধুলাবালি জমে নষ্ট হওয়া সম্ভবনা দেখা দিয়েছে। একটি সরকারি প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করে বছরের পর বছর ফেলে রাখা হয়েছে। এখানে টেক্সটাইল প্রযুক্তির ওপর হাতে-কলমে কারিগরি শিক্ষা প্রদানের মাল পড়ে আছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটির একাডেমিক ভবন, প্রশাসনিক ভবন সহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো প্রস্তুত থাকলেও আসবাবপত্র সরবরাহ, ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হলেও শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, প্রশাসনিক কার্যক্রম সম্পন্ন না হওয়ায় এটি চালু করা হচ্ছেনা। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগের সুফল থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন এলাকার হাজারো শিক্ষার্থী। জগন্নাথপুর ও আশপাশের উপজেলার অনেক শিক্ষার্থী ৮ম শ্রেণী থেকে পাশ করা শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় ভর্তি হতে আগ্রহী। কিন্তু নিজ এলাকায় টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট চালু না থাকায় তাদের দূরের জেলায় গিয়ে ভর্তি হতে হয়। অনেক শিক্ষার্থী আর্থিক অসচ্ছলতা, যাতায়াত সমস্যা ও আবাসনের অভাবে সেই সুযোগও নিতে পারেন না। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষার বাইরে থেকে যাচ্ছেন।
স্থানীয় অভিভাবক মাওলানা নিজাম উদ্দিন জালালী বলেন, বর্তমান সময়ে চাকরির বাজারে কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব অনেক বেড়েছে। বিশেষ করে টেক্সটাইল খাত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পখাত। এ খাতে দক্ষ জনবলের চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। জগন্নাথপুরে টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট চালু হলে স্থানীয় শিক্ষার্থীরা স্বল্প খরচে আধুনিক ও কর্মমুখী শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ পেতেন। পাশাপাশি দেশের তৈরি পোশাক ও টেক্সটাইল শিল্পে দক্ষ কর্মী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন।
শিক্ষাবিদ ও সচেতন নাগরিকরা বলছেন, কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণ সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার। তাই নির্মিত প্রতিষ্ঠানগুলো দ্রুত চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা যেমন উপকৃত হবে, তেমনি সরকারের উন্নয়ন কার্যক্রমও বাস্তব সুফল বয়ে আনবে। তারা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ, প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহ এবং ভর্তি কার্যক্রম শুরু করার আহ্বান জানিয়েছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা, সব ধরনের প্রশাসনিক জটিলতা দ্রুত নিরসন করে জগন্নাথপুর টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট চালু করা হবে। এতে এলাকার শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকাতেই মানসম্মত কারিগরি শিক্ষা লাভের সুযোগ পাবে, বেকারত্ব কমবে এবং দক্ষ জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব হবে। এলাকাবাসীর একটাই দাবি—কাজ সম্পন্ন হওয়া এই প্রতিষ্ঠানটি আর যেন অচল না থাকে। দ্রুত শিক্ষা কার্যক্রম শুরু করে শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হোক জগন্নাথপুর টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট।
এ ব্যাপারে এই টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের দায়িত্বে থাকা শান্তিগঞ্জ এর পিন্সিপাল সোহরাব হোসেন বলেন, এই টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউট চালু হলে সারা বাংলাদেশ থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি হতে পারবে। এই প্রতিষ্ঠানে এখনো লোক নিয়োগ হয় নাই। আমার শান্তিগঞ্জ থেকে একজন লোক দিয়েছি সে এটা দেখা শুনা করে। ২০২৭ সালের জানুয়ারী থেকে ছাত্র ভর্তি হওয়ার কথা রয়েছে। বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড থেকে অনুমোদন হয়ে গেছে। এখনো অধিদপ্তর থেকে জনবলের চাহিদা দেওয়া হয় নাই। কিছু কাজ এখানো চলমান শেষ হলে প্রতিষ্ঠানটি চালু হবে আশা করতেছি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









