কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের কবলে পড়ে বিলিন হতে চলেছে হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের কয়েকটি গ্রাম। প্রায় দুইমাস ধরে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। সম্প্রতি উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টির কারণে নদীতে পানি বেড়ে বেশি ভাঙনের সৃষ্টি হয়।
পানি কমার পরে ও ভাঙন আরো বেড়েছে। নরজা কান্দা,উমেদ নগর,সাহানগর ও রোদ্রনগর গিয়ে দেখা যায়,এলাকার মানুষ ডালপালা,দাড়ি,বাঁশের বেড়া দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
এলাকাবাসী জানান, প্রায় ১০ বছর ধরে কুশিয়ারা নদীর ভাঙনে নরজাকান্দা গ্রামে প্রায় দুই শতাধিক বসতঘর ও ৫০ বিঘা ফসলী জমি কুশিয়ারার গর্ভ গ্রাস করে নিয়েছে। এ গ্রামের আবুল খায়ের মিয়া জানান, বিভিন্ন সময় নদীভাঙনের কাজ হলে ও নরজাকান্দা,উমেদনগর ও রোদ্রনগরে কোন কাজ হয়নি। তাই আমরা খুব বিপদে আছি।
একই গ্রামের পল্লিচিকিৎসক মৃনাল রায় জানান, তার বাড়ির অর্ধেক গিলে ফেলেছে রাক্ষসী কুশিয়ারা,কিছু জায়গা বাঁকী থাকলেও কোন সময় জানি তা ও চলে যায়। উমেদ নগর গ্রামের হুমাউন মিয়া জানান, বর্তমানে যেখানে কুশিয়ারা নদী রয়েছে সেখানের মাঝ বরাবর তাদের বাড়িঘর ছিল, এখন প্রায় দুইশত হাত দুরে এসে বসতঘর নির্মাণ করে বসবাস করতে হচ্ছে। তিনি আরো জানান, উমেদ নগর গ্রামে একটি মন্দির ছিল সেই মন্দিরটি ও নদী গর্ভে বিলিন হয়ে গেছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম রেজাউল করিম জানান, “নদী ভাঙনের কবল থেকে বাচার জন্য যথাযত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”
হবিগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সায়েদুল রহমান জানান, “কুশিয়ারা নদীর ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার জন্য পাঁচ কিলোমিটার ২০০ মিটারের কাজ হবে। ইতোমধ্যে পিরিজপুর ও পুটিয়াকান্দা গ্রামে কাজ শুরু হয়েছে তবে নদীতে পানির স্রোত বেশি হওয়ায় কাজ বন্ধ রয়েছে।”
তিনি আরো জানান, “আগামী চারপাঁচ দিনের ভেতর আজমিরীগঞ্জ উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়নের সাহানগর গ্রাম নদী ভাঙনের কবল থেকে রক্ষার জন্য কাজ শুরু হবে।”


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









