বরগুনা সদর হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনীর করা যৌন হয়রানির অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হবে না কেন, তা জানতে চেয়ে ১০ দিনের মধ্যে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বুধবার (২২ জুলাই) স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত নোটিশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুলাই স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন বরগুনা সদর হাসপাতালের আবাসিক সার্জন ডা. লুৎফুন্নাহার লনী। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, হাসপাতালে যোগদানের পর থেকেই তত্ত্বাবধায়ক বিভিন্ন সময় তাকে নিজের কক্ষে ডেকে কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত করতেন। বিষয়টি তিনি প্রথমে এড়িয়ে গেলেও পরে পরিস্থিতি অসহনীয় হয়ে ওঠে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, গত ১৩ জুলাই তত্ত্বাবধায়ক তাকে হোয়াটসঅ্যাপে কল করে নিজের কক্ষে যেতে বলেন। সেখানে গিয়ে তিনি সিগারেটের গন্ধ পান এবং তত্ত্বাবধায়কের আচরণ অস্বাভাবিক মনে হয়। একপর্যায়ে তাকে ডরমিটরিতে সময় কাটানোর প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ডা. লুৎফুন্নাহার লনীর দাবি, ওই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় তাকে হয়রানিমূলক কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। পরে ১৪ জুলাই গাইনি ওয়ার্ডে স্টাফ ও নার্সদের উপস্থিতিতে তাকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়।
ডা. লুৎফুন্নাহার লনী বলেন, ‘‘আমি বাধ্য হয়ে সচিব বরাবর অভিযোগ করেছি। পরবর্তীতে স্থানীয়ভাবে আপসের চেষ্টা এবং অভিযোগ প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হলেও আমি আমার অভিযোগের বিষয়ে অটল আছি।’’
বরগুনা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. রেজওয়ানুর আলম অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, ‘‘আবাসিক সার্জন হিসেবে যোগদানের পর ডা. লনী নিয়মিত অফিস করতেন না। বিষয়টি নিয়ে তাকে বারবার তাগাদা দেওয়া হয়েছে। পরে বাধ্য হয়ে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। এর জের ধরে তিনি আমার বিরুদ্ধে অসত্য ও ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন।’’
তিনি আরও বলেন, ‘‘আমি জেনেছি আমার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়েছে এবং কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমি এর জবাব দেব।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









