গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় অবৈধ ভাবে ফসলি জমি ধ্বংস করে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি বালু চক্রের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) সরেজমিনে উপজেলার সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের কোনেরভিটা গ্রামে গিয়ে এ তথ্য পাওয়া যায়।
এ ঘটনার বিচার ও নিজের পৈতৃক সম্পত্তির পুনরুদ্ধারের দাবি জানিয়ে কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী হরিচাঁদ মণ্ডল।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, জমির মালিক হরিচান মন্ডল এলাকায় না থাকার সুযোগে স্থানীয় শিশির কুমার মজুমদার, সূর্যকান্ত মজুমদার, অসিত মজুমদার ও কিশোর মজুমদারসহ প্রভাবশালী চক্র জোরপূর্বক তাদের জমি দখল করে বালু উত্তোলন করে।
পরবর্তীতে সরকারের পক্ষ থেকে জমির সীমানা নির্ধারণ করে দেওয়া হলেও অভিযুক্তরা তা অমান্য করে। সরকারের মাটি ব্যবস্হাপনা ও বালু মহাল আইন লংঘন করে ড্রেজার বসিয়ে প্রায় ৪ লক্ষ ঘনফুট বালু উত্তোলন করে বিক্রি করে দেয়।
ভুক্তভোগী হরিচাঁদ মণ্ডলের দাবি, অবৈধভাবে বালু তোলার ফলে তার কৃষি জমি সম্পূর্ণ ধসে পুকুরে পরিণত হয়েছে। যার ফলে তিনি ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন।
ভুক্তভোগী হরিচাঁদ মণ্ডল বলেন, ‘‘আমি একজন সাধারণ ও দরিদ্র মানুষ। পেটের তাগিদে বাইরে কাজ করতে যাওয়ার সুযোগে ওরা আমাদের কৃষি জমি ধ্বংস করে দিয়েছে। ড্রেজার দিয়ে ২০ লাখ টাকার বালু বিক্রি করছে আর আমার জমি কেটে পুকুর বানিয়েছে। এখন আমি আমার পরিবার নিয়ে দিশেহাঁরা হয়ে পড়েছি।’’
এ বিষয়ে জমি পুনরুদ্ধারের জন্য উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ ও বিষয়টি তদন্তপূর্বক দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত কিশোর মজুমদারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বালু উত্তোলনের কথা অস্বীকার করে বলেন, ‘‘আমার কাকা শিশির মজুমদার বালু উত্তোলন করে বিক্রি করেছেন।’’
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাগুফতা হক বলেন, ‘‘অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









