পাবনার ঈশ্বরদীতে ফিজিওথেরাপি সেন্টারের আড়ালে কথিত অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনার প্রতিবাদ করায় এক গৃহবধূকে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে তার স্বামীর বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে যৌতুকের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন, গলায় ছুরি ঠেকিয়ে প্রাণনাশের হুমকি এবং মারধরের অভিযোগও করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে ভুক্তভোগীর ভাই নুর আলম বাপ্পি বাদী হয়ে ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরদী উপজেলার মুলাডুলি ইউনিয়নের বেদুনদিয়া এলাকার নুর আলম বাপ্পির বোন লতা খাতুনের সঙ্গে প্রায় সাত বছর আগে জয়নগর শিমুলতলা গ্রামের রেজাউল করিম খানের বিয়ে হয়। তাদের সংসারে এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে।
লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে বিভিন্ন সময় লতা খাতুনকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো।
রবিবার সকালে রেজাউল করিম খান আবারো যৌতুকের টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে চুল ধরে টানাহেঁচড়া, কিল-ঘুষি ও লাঠি দিয়ে মারধর করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। একপর্যায়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে শিশু সন্তানদেরসহ তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়। পরে স্বজনরা আহত অবস্থায় লতা খাতুনকে উদ্ধার করে ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
ভুক্তভোগী লতা খাতুন অভিযোগ করেন, এর আগেও তার স্বামীর চারটি বিয়ে হয়েছিল এবং নির্যাতনের কারণে আগের স্ত্রীরা সংসার ছেড়ে চলে যান। তাকেও বিভিন্ন সময় মারধর, গলা চেপে ধরা এবং গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এ ছাড়া লতা খাতুনের অভিযোগ, তার স্বামী একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টার পরিচালনা করেন। সেখানে থেরাপি ও চাকরি দেওয়ার কথা বলে বিভিন্ন নারীকে ডেকে এনে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা হয়। তিনি এসব কর্মকাণ্ডের প্রতিবাদ করায় তাকে নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলেও দাবি করেন।
তবে স্ত্রীর করা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত রেজাউল করিম খান। তিনি বলেন, ‘স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ হতেই পারে। সে হিসেবে আমি তাকে কয়েকটি চড়-থাপ্পড় মেরেছি।
ফিজিওথেরাপি সেন্টারে অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এলাকার একটি কুচক্রী মহল ও আমার স্ত্রী আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ করছেন। আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। আমি এ ধরনের কোনো কাজ করি না। আপনারা চাইলে তদন্ত করে দেখতে পারেন।
ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আশাদুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









