গোলাপগঞ্জ পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাতি বসানো হলেও অধিকাংশ স্থানে বাতি জ্বলছে না। কোথাও আবার লাইট থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে অচল অবস্থায় পড়ে আছে। ফলে সন্ধ্যা নামলেই পৌর এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অন্ধকারে ডুবে যায়, আর এতে চরম দুর্ভোগে পড়ছেন পথচারী, শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী ও যানবাহন চালকেরা।
সরেজমিনে পৌরসভার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সারিবদ্ধভাবে বৈদ্যুতিক খুঁটি ও বাতি স্থাপন করা থাকলেও অধিকাংশ খুঁটিতে কার্যকর স্ট্রিট লাইট জ্বলছে না। কোথাও আবার বাতি সম্পূর্ণ অনুপস্থিত, আবার কোথাও দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট হয়ে পড়ে থাকলেও তা মেরামতের কোনো উদ্যোগ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় বাসিন্দা ইমন আহমদ বলেন, ‘‘সড়ক আলোকায়নের উদ্দেশ্যে স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হলেও বাস্তবে আমরা এর কোনো সুফল পাচ্ছি না। রাত হলেই পুরো সড়ক অন্ধকারে ডুবে যায়। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি যেমন বাড়ছে, তেমনি চুরি, ছিনতাইসহ নানা ধরনের অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কাও তৈরি হচ্ছে।’’
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যাপ্ত আলোর অভাবে রাতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের নিরাপদ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জরুরি প্রয়োজনে রাতের বেলা বাইরে বের হলেও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়।
ব্যবসায়ীরাও জানান, অন্ধকারের কারণে সন্ধ্যার পর অনেক ক্রেতা বাজারে আসতে অনীহা প্রকাশ করেন। সিএনজি অটোরিকশা চালক আফসার আহমদ জানান সড়কে বাতিগুলো মেরামত না করায় বিভিন্ন সময় চালকদের দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়।
পৌরবাসীর প্রশ্ন, স্ট্রিট লাইট স্থাপনের জন্য সরকারি অর্থ ব্যয় করে খুঁটি ও বাতি বসানো হলেও সেগুলো কেন কার্যকর রাখা হচ্ছে না? রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষ নিয়মিত তদারকি করছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে। প্রকল্প বাস্তবায়নের পর যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবেই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছেন তারা।
স্থানীয়দের দাবি, গোলাপগঞ্জ পৌরসভার সব সড়কে দ্রুত কার্যকর স্ট্রিট লাইট চালু করতে এবং দীর্ঘদিন ধরে অচল থাকা বাতিগুলো দ্রুত মেরামত করতে। পাশাপাশি এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের অবহেলা, অনিয়ম বা দায়িত্বে গাফিলতি থেকে থাকলে তা তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও কথা জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‘পৌরসভার স্ট্রিট লাইটগুলো নিয়মিত ব্যবহার হওয়ায় প্রায় প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ত্রুটি দেখা দেয়। তবে সেগুলো মেরামতের কাজও নিয়মিত চলছে। কোনো লাইট নষ্ট হওয়ার খবর পাওয়া মাত্রই দ্রুত তা সচল করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









