একজন মানুষ বাতাসের মধ্যে দাঁড়িয়ে গান শুনছেন, এটি নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনার কী আছে—এমন প্রশ্ন তুলেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পালের ভাইরাল ভিডিও নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে সিলেটের জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী।
বিউটি রানী পালকে নিয়ে চলমান বিতর্কের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ববি হাজ্জাজ বলেন, “এইটা নিয়ে কোনো কথা হবে না। একজন মানুষ বাতাসের ভিতর দাঁড়িয়ে গান শুনছে—এটা নিয়ে আলোচনা বা সমালোচনা কেন হবে? আজকে আমি দাঁড়িয়ে আপনাদের সঙ্গে কথা বলছি। আপনারা যদি বলেন, ‘কথা বলল কেন? চলেন এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা করি’, তাহলে কি সেটা যৌক্তিক হবে?”
সাংবাদিকদের উদ্দেশে তিনি আরও বলেন, “এটা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা আপনারাই করেছেন। জনগণ বা অন্য কেউ করছে না।”
এর আগে আজ সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে বিউটি রানী পাল তার পাশে দাঁড়ানো সরকারি প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সাংবাদিক, সুশীল সমাজ, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, গান, কবিতা, লেখা ও বিভিন্ন সৃজনশীল মাধ্যমে যে সংহতি ও নৈতিক সমর্থন তিনি পেয়েছেন, তা তাকে সাহস ও প্রেরণা জুগিয়েছে।
পাশাপাশি তিনি দ্রুত ‘শিক্ষক সুরক্ষা আইন-২০২৬’ প্রণয়নের দাবি জানান, যাতে ভবিষ্যতে কোনো শিক্ষক সাইবার বুলিং, মানহানি বা অনলাইন হয়রানির শিকার না হন এবং মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
সম্প্রতি বৃষ্টির গানের সঙ্গে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করার পর একাংশের সমালোচনা ও ট্রলের মুখে পড়েন ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার পিটাইটিকর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা বিউটি রানী পাল। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা ধরনের কটূক্তি করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও ওঠে।
তবে এ ঘটনার পর তার সহকর্মী, শিক্ষকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তার পাশে দাঁড়ান। সংহতি জানিয়ে অনেকেই একই ধরনের ভিডিও প্রকাশ করে ট্রলের প্রতিবাদ জানান।
গত সোমবার এ ঘটনায় ফেঞ্চুগঞ্জ থানায় একটি জিডি করেন বিউটি রানী পাল।
উল্লেখ্য, বিউটি রানী পাল ২০২৬ সালে জেলা পর্যায়ের শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হন। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। তার ফেসবুক অ্যাকাউন্টে নিয়মিত বিদ্যালয়ের পাঠদান, শিক্ষার্থীদের শরীরচর্চা, নাচ-গানের মাধ্যমে পাঠদান, বৃক্ষরোপণ ও শিক্ষামূলক বিভিন্ন কার্যক্রমের ভিডিও প্রকাশ করা হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









