ভোলা সদর উপজেলার অফিসারপাড়ার এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে মো. শাহাবুদ্দিন ফকির (৪৫) নামে ভোলা কোর্ট পুলিশে কর্মরত এক কনস্টেবলের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ) দুপুরে ওই বাসা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মো. শাহাবুদ্দিন ফকির ভোলা কোর্ট পুলিশে কনস্টেবল হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তিনি বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার দক্ষিণ বিজয়পুর গ্রামের বাসিন্দা এবং আদম আলী ফকিরের ছেলে।
ভোলা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) মো. নাছির উদ্দিন জানান, কনস্টেবল শাহাবুদ্দিন অফিসারপাড়ার একটি ভাড়া বাসায় পরিবার নিয়ে বসবাস করতেন। কয়েক দিন আগে তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে যাওয়ায় তিনি বাসায় একাই ছিলেন। মঙ্গলবার সকালে কোর্টে তার ডিউটি ছিল। নির্ধারিত সময়ে তিনি ডিউটিতে যোগ না দেওয়ায় সহকর্মীরা তাকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করেন। কিন্তু কোনো সাড়া না পাওয়ায় বিষয়টি সন্দেহজনক মনে হয়।
পরে কোর্ট পুলিশের সদস্যরা বাড়ির মালিককে সঙ্গে নিয়ে বাসায় গিয়ে ডাকাডাকি করেন। ভেতর থেকে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা ভেঙে প্রবেশ করলে ঘরের ভেতরে শাহাবুদ্দিনকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে খবর পেয়ে থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
জানা গেছে, কয়েক মাস আগে পরীক্ষায় কম নম্বর পাওয়াকে কেন্দ্র করে শাহাবুদ্দিনের মেয়েও আত্মহত্যা করেছিলেন। মেয়ের মৃত্যুর পর তিনি মানসিকভাবে কষ্টের মধ্যে ছিলেন কি না কিংবা সেই ঘটনার শোক ও চিন্তার সঙ্গে তার বর্তমান মৃত্যুর কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টিও তদন্তে গুরুত্ব পেতে পারে।
পুলিশ আরও জানায়, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম বলেন, “খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে।”
কনস্টেবল শাহাবুদ্দিনের মৃত্যুর কারণ এবং ঘটনার বিস্তারিত তথ্য এখনো নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









