ঢাকার ধামরাইয়ে সরকারি অর্থ সাশ্রয়ের এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে উপজেলা প্রশাসন। দুটি খাল পুনঃখননের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন করে বরাদ্দের অব্যবহৃত প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পুনঃখনন করা খাল দুটির কারণে কৃষিজমিতে সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা হ্রাস এবং কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধির সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় স্থানীয় কৃষকদের মধ্যে নতুন আশাবাদ সৃষ্টি হয়েছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ধামরাই সদর ইউনিয়নের ইকুরিয়া খাল এবং কুল্লা ইউনিয়নের বাড়িগাঁও খাল—মোট ৪ দশমিক ১৬০ কিলোমিটার পুনঃখননের জন্য ২ কোটি ৮ লাখ ৯৪ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর অব্যবহৃত ৯৩ লাখ ৫ হাজার ৬৩ টাকা এবং এর সঙ্গে ভ্যাটসহ মোট প্রায় ১ কোটি ৫ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আল মামুন বলেন, “প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর যে অর্থ অব্যবহৃত ছিল, তা সরকারি বিধি অনুযায়ী কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে। সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।”
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, পুনঃখননের ফলে খাল দুটির পানি ধারণ ও প্রবাহ ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে কৃষিজমিতে সেচ সহজ হবে, বর্ষাকালে দ্রুত পানি নিষ্কাশন সম্ভব হবে এবং জলাবদ্ধতার সমস্যা অনেকাংশে কমে আসবে। এর ইতিবাচক প্রভাব স্থানীয় কৃষি উৎপাদন ও গ্রামীণ অর্থনীতিতে পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় কৃষকদের প্রত্যাশা, খাল দুটি সচল থাকলে সেচ সংকট অনেকটাই দূর হবে, চাষাবাদের খরচ কমবে এবং বছরের বিভিন্ন মৌসুমে অধিক ফলন নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। ফলে প্রকল্পটি শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, কৃষিভিত্তিক অর্থনীতিতেও দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









