সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলা দীর্ঘদিন ধরে ভয়াবহ বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের অধিকাংশ গ্রামেই দিনে-রাতে মিলিয়ে প্রায় ২০ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ গ্রাহকরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের অধিকাংশ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ঠিকমতো পড়াশোনা করতে পারছে না। সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ না থাকায় পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি ব্যাহত হচ্ছে। প্রচণ্ড গরমে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন।
অন্যদিকে বিদ্যুৎ না থাকায় ক্ষুদ্র ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। দোকানপাট, কম্পিউটার সেবা, মোবাইল চার্জিং, ইন্টারনেট নির্ভর কাজ এবং দৈনন্দিন ব্যবসায় বিঘ্ন ঘটছে। অনেক এলাকায় গভীর নলকূপ ও পানির মোটর চালানো সম্ভব হচ্ছে না, ফলে বিশুদ্ধ পানির সংকটও দেখা দিয়েছে।
এদিকে টানা বিদ্যুৎ সংকটের প্রতিবাদে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে সাধারণ মানুষ বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন। তারা দ্রুত নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ দাবি করেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে জামালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের এজিএমকে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।
পরবর্তীতে জামালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, জামালগঞ্জ উপজেলায় বিদ্যুতের যে পরিমাণ চাহিদা রয়েছে, তার তুলনায় অনেক কম মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বরাদ্দ পাওয়া যায়। এ কারণে গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না। এটি মূলত জাতীয় পর্যায়ের একটি সমস্যা। তবে আমরা আশা করছি, দ্রুত এ সংকটের সমাধান হবে।
তবে স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে একই সমস্যার কথা শুনলেও বাস্তবে কোনো দৃশ্যমান উন্নতি হয়নি। বিদ্যুৎ সংকটের কারণে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তাই জামালগঞ্জবাসী দ্রুত বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বৃদ্ধি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন এবং নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ নিশ্চিত করতে সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিদ্যুৎ বিভাগের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
স্থানীয়দের ভাষায়, বিদ্যুৎ এখন আমাদের মৌলিক প্রয়োজন। দিনের পর দিন এমন ভয়াবহ লোডশেডিং কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া না হলে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









