দশমিনা উপজেলায় চলমান এইচএসসি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীর এমসিকিউ উত্তরপত্র পূরণের অভিযোগ উঠেছে কেন্দ্র সুপারের বিরুদ্ধে। অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত কেন্দ্র সুপার অভিযোগ অস্বীকার করলেও বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে।
অভিযোগে জানা যায়, চলমান এইচএসসি পরীক্ষার কেন্দ্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করছে ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজ। শনিবার (১ আগস্ট) কৃষিশিক্ষা দ্বিতীয় পত্রের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। মূল কেন্দ্র হিসেবে কলেজের দুটি কক্ষে এবং উপকেন্দ্র হিসেবে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ১১টি কক্ষে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক ও কেন্দ্র সুপার মো. মহিউদ্দিনের মামাতো ভাই শিক্ষার্থীর মূল কেন্দ্রের ১ নম্বর কক্ষে পরীক্ষায় অংশ নেন। এমসিকিউ পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র প্যাকিংয়ের জন্য উপকেন্দ্রে নেওয়া হলে কেন্দ্র সুপার ওই পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র বের করে মোবাইল ফোনে দেখে উত্তর পূরণ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, ঘটনাটি কয়েকজন শিক্ষক-শিক্ষিকা দেখতে পেয়ে কেন্দ্র সচিবকে অবহিত করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, বিষয়টি গুরুত্ব না দিয়ে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে ঘটনাটির একটি ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তা দ্রুত ভাইরাল হয়।
অভিযোগ অস্বীকার করে কেন্দ্র সুপার মো. মহিউদ্দিন বলেন, “আমাদের মূল কেন্দ্র ছিল ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজে। কক্ষ সংকটের কারণে দশমিনা সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়কে উপকেন্দ্র করা হয়েছে। প্রতিদিনের মতো পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র সেখানে এনে প্যাকেট করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।” তবে অভিযুক্ত পরীক্ষার্থী তার মামাতো ভাই কি না,এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “হ্যাঁ, তিনি আমার মামাতো ভাই এবং ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা দিচ্ছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একাধিক প্রভাষক, শিক্ষক ও কর্মচারী দাবি করেন, জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের উপেক্ষা করে কলেজের অধ্যক্ষ মো. সোহরব হোসেন বিধি-বিধান অনুসরণ না করে মো. মহিউদ্দিনকে কেন্দ্র সুপার হিসেবে দায়িত্ব দেন। তাদের ভাষ্য, পরীক্ষা শুরুর পর থেকেই এমসিকিউ উত্তরপত্র নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ছিল। শনিবার শারীরিক শিক্ষা বিভাগের প্রভাষক বেলাল হোসেন ঘটনাটি হাতেনাতে দেখতে পান এবং মোবাইল ফোনে তার প্রমাণ সংরক্ষণ করেন। পরে বিষয়টি জানাজানি হলেও কেন্দ্র সচিব তা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগ করেন তারা।
ডা. ডলি আকবর মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও কেন্দ্র সচিব মো. সোহরব হোসেন বলেন, “পরীক্ষার সময় আমার কক্ষ আলাদা ছিল, তাই ঘটনাটি সরাসরি দেখিনি। তবে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজন হলে তাকে কেন্দ্র সুপারের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে।” এ সময় তিনি গণমাধ্যমকে বিষয়টি প্রকাশ না করার অনুরোধও জানান।
বরিশার মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষাবোর্ড চেয়ারম্যান (প্রেষণে) প্রফেসর আবু তাহের মোহাম্মদ রাশেদুল ইসলাম জানান,এ বিষয়ে আপনার কাছে এই প্রথম শুনলাম, দপ্তরের যোগাযোগ করে অভিযোগ সত্য প্রমান হলে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা গ্রহণ করব। এছাড়াও বর্তমান গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কেমন শিক্ষকদের অনৈতিক কার্যকলাপ আশ্রয় দেয় না। এবং দেবোও না।
দশমিনা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইউ এন ও জনাব মাহমুদ হাসান মৃধা জানান, তিনি বিষয়টি অবহিত আছেন। তাৎক্ষণিকভাবে ঐ শিক্ষকে কাজ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।বোর্ডে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য লিখিত দেয়া হয়েছে। বোর্ডের চেয়ারম্যান বরাবর বিষয়টি অবহিত করে তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









