দিনাজপুর জেলার ৬ উপজেলায় চলছে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। দীর্ঘস্থায়ী লোডশেডিংয়ের ফলে হাসপাতালের রোগীরা প্রচণ্ড গরমে অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
শনিবার (১ আগস্ট) দুপুরে বিরামপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ৫০ শয্যা হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, ভর্তি রোগীরা গরমে হাঁসফাঁস করছেন। রোগীর স্বজনরা কেউ হাতপাখা দিয়ে আবার কেউ প্রেসক্রিপশন ফাইল দিয়ে বাতাস করে চলেছেন। রোগীর স্বজনরা বলেন, প্রচণ্ড গরমের মাঝে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীরা আরও বেশি অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ সূত্রে জানা গেছে, এই সমিতির অধীনে দিনাজপুরের বিরামপুর, নবাবগঞ্জ, হাকিমপুর, ঘোড়াঘাট, ফুলবাড়ি ও পার্বতীপুর উপজেলায় ৩ লক্ষাধিক বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এই ৬ উপজেলায় ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে সরবরাহ মিলছে ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট। এতে বেশি সময় লোডশেডিংয়ের কবলে পড়া এই ৬ উপজেলার গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুৎ মিলছে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৪ ঘণ্টা।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. শাহরিয়ার পারভেজ জানান, অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের কারণে জরুরি বিভাগে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুতের অভাবে শ্বাসকষ্ট নিবারণে ব্যবহৃত নেবুলাইজার ও জটিল রোগীর ক্ষেত্রে অক্সিজেন কন্সানটেটর মেশিন চালানো যাচ্ছে না। এছাড়া পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো যাচ্ছে না, সৃষ্টি হয়েছে পানি সংকট।
বিরামপুর পেশাজীবী ঐক্য ফোরামের আহ্বায়ক রফিকুল ইসলাম সরকার বলেন, ‘‘আমাদের এলাকার তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদিত বিদ্যুৎ আমরাই পাচ্ছিনা। বিদ্যুৎ বিভাগের বিমাতাসুলভ পদক্ষেপে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। এলাকার বিদ্যুৎ নির্ভর ব্যবসা বাণিজ্য ও কৃষির সেচকাজে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। এ অবস্থার উত্তরণ না ঘটলে আমরা আন্দোলনে যাব।’’
উপজেলা শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরের মোহনপুর গ্রামের কৃষক জহির উদ্দিন মন্ডল বলেন, ‘‘গ্রাম এলাকায় আমরা ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪ ঘণ্টাও বিদ্যুৎ পাচ্ছি না।’’
দিনাজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ এর জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) প্রকৌশলী সাদেকুর রহমান বলেন, ‘‘এই সমিতির গ্রাহকদের ৯০ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বর্তমানে জাতীয় গ্রিড থেকে ৪০ থেকে ৪৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ পাচ্ছি।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









