বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. মো. রফিকুল ইসলাম সরদার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের উদ্দেশে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীন মিলনায়তনে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ড. মো. হেলাল উদ্দীনের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে কার্যক্রম শুরু হয়।
পরে শিক্ষকদের সকাল ১০টায় , কর্মকর্তাদের সকাল ১১টায় এবং কর্মচারীদের উদ্দেশে দুপুর ১২টায় বক্তব্য দেন নবনিযুক্ত ভাইস-চ্যান্সেলর।
ভাইস-চ্যান্সেলর তার বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণার মানোন্নয়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রমের গতি বৃদ্ধি, শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি বলেন, ‘‘দেশ মাতৃকার মুক্তির লড়াইয়ে অংশগ্রহণ করে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিক্ষক, ছাত্র, কর্মকর্তা ও কর্মচারী জীবন উৎসর্গ করে চিরঞ্জীব হয়ে আছেন। আমি শ্রদ্ধাবনতচিত্তে স্মরণ করি মহান স্বাধীনতার ঘোষক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে এবং তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। আমি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি অকুতোভয় দেশপ্রেমিক মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের স্বাধীনতা অর্জনে জীবন দানকারী শহীদদের যারা অকাতরে দেশের জন্য প্রাণ বিসর্জন দিয়েছেন। সেইসাথে ২০২৪ এর গণ অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার সীমাহীন আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশে দীর্ঘ দিনের অগণতান্ত্রিক সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে নতুন অধ্যায় তৈরিতে যারা জীবন উৎসর্গ করেছেন তাদের সবার প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা, গভীর সমবেদনা ও তাদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।’’
তিনি বলেন, ‘‘বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। শিক্ষার পরিবেশ, গবেষণা কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সেবার মান আরও উন্নত করতে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।’’
এ সময় তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করেন। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পরিচালনা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং সুষ্ঠু কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার স্বার্থে ভাইস চ্যান্সেলর সবাইকে ‘চেইন অব কমান্ড’ মেনে চলার নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, ‘‘আমার এই প্রাণ প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয়ের দক্ষ, অভিজ্ঞ সম্মানিত শিক্ষক-শিক্ষার্থী-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে আমি সর্বদা গর্ববোধ করি। তার কারণ সোনালী ফসল ফলিয়ে এবং মৎস্য ও প্রাণি সম্পদের উন্নয়ন ঘটিয়ে দেশটিকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পেছনে যে বুদ্ধিবৃত্তিক শক্তিটি কাজ করেছে, তার প্রধান চালক বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। আমরা সবাই জানি আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে। সারা বিশ্ব জুড়ে প্রচলিত টাইমস হায়ার এডুকেশন, কিউএস এবং সাংহাই এই তিনটি গ্লোবাল র্যাকিংয়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে সবার উপরে একাধিকবার স্থান করে নিয়েছে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি)। এছাড়া বিশ্বসেরা বিজ্ঞান গবেষকের তালিকায় বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) গবেষকদের সংখ্যা একেবারে কম নয়। বিজ্ঞানীদের প্রকাশনা, এইচ-ইনডেক্স, সাইটেশন ও অন্যান্য সূচক বিশ্লেষণ করলে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষক ও গবেষকগণ আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে আজ সর্বজন স্বীকৃত। সকলের আন্তরিক প্রচেষ্টায় এধারা অব্যাহত রাখতে হবে।’’
তিনি আরো বলেন, ‘‘এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন কৃতী গ্রাজুয়েট দেশের সর্বোচ্চ বেসামরিক সম্মাননা ‘স্বাধীনতা পুরস্কার’ অর্জন করেছেন। এছাড়া কয়েকজন গুণী শিক্ষক একুশে পদক অর্জন করেছেন। এটি নিঃসন্দেহে বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও গৌরবের বিষয়।’’
অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদ ,বিভাগ, ইনস্টিটিউট ও শাখার শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









