টানা ছয় দিনের আন্দোলনের পর বরিশালের সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনিরুজ্জামানের বদলির খবরে কর্মসূচি প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।
রবিবার (২ আগস্ট) সকালে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে সিভিল সার্জন কার্যালয়ের প্রধান ফটকে তালা ঝুলিয়ে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়া হলেও, বদলির খবর নিশ্চিত হওয়ার পর তালা খুলে কার্যালয় চত্বরে একটি গাছের চারা রোপণ করেন তারা।
সকাল থেকেই আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কার্যালয় থেকে বের হয়ে যেতে অনুরোধ করেন এবং প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দেন। এর ফলে প্রায় দুই ঘণ্টা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের সব ধরনের প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ থাকে। স্বাস্থ্যসেবা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে আসা সাধারণ মানুষকে এ সময় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
পরে শিক্ষার্থীরা জানতে পারেন, বিতর্কের মুখে থাকা সিভিল সার্জন ডা. এস এম মনিরুজ্জামানকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সংযুক্ত করে বদলির আদেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। খবরটি ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্দোলনকারীদের মধ্যে স্বস্তির পরিবেশ সৃষ্টি হয়।
এরপর তারা কার্যালয়ের প্রধান ফটকের তালা খুলে দেন এবং আন্দোলনের প্রতীকী সমাপ্তি হিসেবে কার্যালয় প্রাঙ্গণে একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, সাধারণ মানুষের সেবা কার্যক্রম যাতে ব্যাহত না হয়, সে বিষয়টি বিবেচনায় নিয়েই তারা কার্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম চালুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে নতুন সিভিল সার্জন দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত বর্তমান সিভিল সার্জনের দাপ্তরিক কক্ষ তালাবদ্ধ থাকবে। নতুন কর্মকর্তা যোগদানের পর ওই কক্ষের তালা খুলে দেওয়া হবে বলেও জানান তারা।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থী সাব্বির বলেন, “আমাদের আন্দোলনের একমাত্র দাবি ছিল বিতর্কিত সিভিল সার্জনকে অপসারণ করা। সরকার সেই সিদ্ধান্ত নেওয়ায় আমরা কর্মসূচির ধরন পরিবর্তন করেছি। সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে প্রধান ফটকের তালা খুলে দিয়েছি। তবে নতুন সিভিল সার্জন যোগদান না করা পর্যন্ত আগের সিভিল সার্জনের কক্ষ তালাবদ্ধ থাকবে। আমরা চাই, স্বাস্থ্য বিভাগের সব কার্যক্রম স্বাভাবিকভাবে চলুক এবং মানুষ নির্বিঘ্নে সেবা পাক।”
উল্লেখ্য, ডা. এস এম মনিরুজ্জামান বরিশালের সিভিল সার্জন হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই তার নিয়োগের বিরোধিতা করে আন্দোলনে নামেন শিক্ষার্থীরা। তাকে অপসারণের দাবিতে কয়েক দিন ধরে বিক্ষোভ, অবস্থান কর্মসূচি ও কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে প্রতিবাদ অব্যাহত ছিল। শেষ পর্যন্ত মন্ত্রণালয়ের বদলির সিদ্ধান্তের পর আন্দোলনের মূল দাবি পূরণ হয়েছে বলে দাবি করেন আন্দোলনকারীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









