ঢাকার ধামরাইয়ে পারিবারিক কলহের জেরে তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা গৃহবধূ পপি রাণী সরকারকে (২৭) লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তার স্বামী লিটন সরকারের বিরুদ্ধে। নিহত পপি রাণী দুই সন্তানের জননী ছিলেন। ঘটনার পর স্থানীয়রা অভিযুক্ত লিটন সরকারকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেন।
রবিবার (২ আগস্ট) দিবাগত রাতে ধামরাই উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের গোমগ্রাম এলাকা থেকে পপি রাণী সরকারের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গোমগ্রামের বাসিন্দা ও অটোরিকশা চালক লিটন সরকার দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। এ কারণে তিনি প্রায়ই স্ত্রী পপি রাণীকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করতেন বলে দাবি করেছে নিহতের পরিবার।
পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, রবিবার (২ আগস্ট) দুপুরে পারিবারিক বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে লিটন সরকার লাঠি দিয়ে স্ত্রীকে এলোপাতাড়ি মারধর করেন। এ সময় তাদের সাত বছর বয়সী সন্তান ঘটনাটি প্রত্যক্ষ করে।
অভিযোগ রয়েছে, মারধরের একপর্যায়ে পপি রাণী অচেতন হয়ে পড়লেও তাকে বাথরুমের সামনে ফেলে রেখে লিটন সরকার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যান। পরে সন্ধ্যার দিকে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে কালামপুর হলি জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহতের বাবা পরিমল সরকার অভিযোগ করে বলেন, ‘‘তার মেয়েকে দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন করতেন জামাতা লিটন সরকার। এর আগেও মারধরের ঘটনায় মেয়েকে একাধিকবার বাবার বাড়িতে নিয়ে আসতে হয়েছিল। পরে লিটন ক্ষমা চেয়ে আবার তাকে নিজের বাড়িতে নিয়ে যান।’’
তিনি বলেন, “আমার মেয়েকে প্রায়ই মারধর করত। একবার মারধরের পর শ্বশুরবাড়ির পাশের একটি ব্রিজের নিচেও ফেলে দিয়েছিল। অনেকবার মেয়েকে বাড়িতে এনে রেখেছি। পরে সে ক্ষমা চেয়ে আবার নিয়ে গেছে। এবার আমার মেয়েটাকে পিটিয়ে মেরেই ফেলেছে।”
ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) শহিদুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, ‘‘খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে।’’
তিনি আরও জানান, অভিযুক্ত স্বামী লিটন সরকারকে আটক করা হয়েছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিহতের বাবা থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে এসেছেন এবং বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









