গোপালগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে এম বাবর বলেছেন, বিগত সময়ে দেশের গণতন্ত্র যেভাবে ভূলুণ্ঠিত হয়েছিল এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলো যেভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, ভবিষ্যতে যেন সেই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়। ৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থান থেকে শিক্ষা নিয়ে একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে সবাইকে কাজ করতে হবে। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ঘোষিত 'সবার আগে বাংলাদেশ' মিশন বাস্তবায়নে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করব।
বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে গোপালগঞ্জে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন।
সকালে গোপালগঞ্জ ক্রিকেট স্টেডিয়াম সংলগ্ন নির্মাণাধীন জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির সূচনা হয়। প্রথমে এমপি ডা. কে এম বাবর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। পরে জেলা প্রশাসনের পক্ষে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান, পুলিশ প্রশাসনের পক্ষে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান, জেলা বিএনপির পক্ষে আহ্বায়ক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক শরীফ রফিকুজ্জামানের নেতৃত্বে দলীয় নেতাকর্মী, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তর এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।
পরে সকালে সদর উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্য ও জুলাই যোদ্ধাদের সংবর্ধনা প্রদান এবং দিবসটির তাৎপর্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মো. আরিফ-উজ-জামান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সকল শহীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানাই। জুলাইয়ের চেতনা সমাজের সর্বস্তরে ছড়িয়ে পড়ুক এবং গণতান্ত্রিক ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকুক। দেশ আরও স্বনির্ভর ও সমৃদ্ধ হোক।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পুলিশ সুপার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে দেশের ৬৪ জেলার মতো গোপালগঞ্জেও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে। আগস্ট মাসকে ঘিরে ১ আগস্ট থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এ সময় সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকবে বলে আমরা আশাবাদী।
অনুষ্ঠানে ৪১ জন আহত জুলাই যোদ্ধাকে তিন হাজার টাকা করে এবং সাতজন জুলাই শহীদের পরিবারকে পাঁচ হাজার টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের মিলনায়তন এবং উন্মুক্ত স্থানে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় সরবরাহকৃত চলচ্চিত্র ও প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনভিত্তিক দুর্লভ আলোকচিত্র ও প্রামাণ্যচিত্রের প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।
এ ছাড়া জেলার সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বিশেষ দোয়া, মোনাজাত ও প্রার্থনা অনুষ্ঠিত হয়। সরকারি হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু পরিবার, শিশু পুনর্বাসন কেন্দ্র, প্রতিবন্ধী কল্যাণ কেন্দ্র, ডে-কেয়ার ও শিশু বিকাশ কেন্দ্রে প্রীতিভোজের আয়োজন করা হয়।
দিবসটি উপলক্ষে জেলার সরকারি ও বেসরকারি বিনোদন কেন্দ্রগুলো শিশুদের জন্য সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা হয় এবং বিনা টিকিটে প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হয়। শহরের প্রধান প্রধান সড়ক জাতীয় পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন ও রঙিন নিশান দিয়ে সজ্জিত করা হয়।
গোপালগঞ্জ শিশু একাডেমি দিবসটি উপলক্ষে রচনা, আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এ ছাড়া বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
অন্যদিকে, দিবসটি উপলক্ষে জেলা বিএনপি ও জেলা জামায়াতে ইসলামী পৃথক বর্ণাঢ্য র্যালি বের করে। ঢাক-ঢোলের বাদ্য ও উৎসবমুখর পরিবেশে র্যালিগুলো শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। একইভাবে জেলার অন্যান্য উপজেলাতেও যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ পালিত হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









