বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রামে ঘটে যাওয়া রহস্যজনক বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনার পেছনে নাশকতা, পারিবারিক বিরোধ, পূর্বশত্রুতা, উগ্রবাদী সংশ্লিষ্টতা কিংবা অন্য কোনো উদ্দেশ্য রয়েছে কি না, এসব সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে পুলিশ।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুরে বরিশালের পুলিশ সুপার এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
ঘটনার পর ঢাকা থেকে আসা বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দলের প্রাথমিক তদন্তে বিস্ফোরণস্থল বর্তমানে ঝুঁকিমুক্ত বলে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি ঘটনাস্থল থেকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে। মামলার পর তদন্ত কার্যক্রম আরও জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
এ.জেড.এম. মোস্তাফিজুর রহমান জানান, রহস্যজনক বিস্ফোরণের ঘটনায় বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে ঢাকা থেকে আসা বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে এবং তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে ঘটনাস্থল এখন সম্পূর্ণ নিরাপদ।
তিনি বলেন, ‘‘মামলায় আসামিরা অজ্ঞাতনামা হওয়ায় বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। পারিবারিক বিরোধ ছিল কি না, পূর্বশত্রুতার জের রয়েছে কি না, কেউ ব্যক্তিগত বা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার উদ্দেশে এ ঘটনা ঘটিয়েছে কি না, উগ্রবাদী সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, সবকিছুই গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এমনকি আগস্ট মাসকে কেন্দ্র করে কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে। একটি প্রত্যন্ত জেলে অধ্যুষিত গ্রামে কেন এমন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলো, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।’’
বিস্ফোরকের ধরন সম্পর্কে পুলিশ সুপার বলেন, ‘‘এটি ছিল একটি হাতে তৈরি বোমা। পটকার বারুদ ও পেট্রোলের সংমিশ্রণে বিস্ফোরকটি তৈরি করা হয়েছিল। এতে স্প্লিন্টার ব্যবহার করা হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারতো। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, যারা এটি তৈরি করেছে তাদের বিস্ফোরক তৈরির বিষয়ে পূর্ব অভিজ্ঞতা রয়েছে। সংশ্লিষ্টদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চলছে।’’
এদিকে বিস্ফোরণে গুরুতর দগ্ধ হনুফা বেগম, তার মেয়ে ইতি এবং পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাতি ফাহিমকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছে। বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গত সোমবার সন্ধ্যায় সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে তাদের রাজধানীতে নেওয়া হয়। আহতদের চিকিৎসার সার্বিক ব্যয় ও প্রয়োজনীয় সহায়তার দায়িত্ব নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
উল্লেখ্য, সোমবার (৩ আগস্ট) সকাল ৬টার দিকে বাকেরগঞ্জ উপজেলার ভরপাশা ইউনিয়নের দুধলমৌ গ্রামের শাহ আলম হাওলাদারের বাড়িতে হঠাৎ বিকট শব্দে একটি বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শাহ আলমের স্ত্রী হনুফা বেগম, মেয়ে ইতি এবং নাতি ফাহিম গুরুতর দগ্ধ হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে প্রথমে বাকেরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে অবস্থার অবনতি হলে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল ঘিরে তদন্ত শুরু করে। পরবর্তীতে ঢাকা থেকে বিস্ফোরক বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে আলামত সংগ্রহ ও প্রাথমিক তদন্ত কার্যক্রম সম্পন্ন করে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









