সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ৬নং চিকনাগুল ইউনিয়নের পশ্চিম ঠাকুরের মাটি গ্রামে দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে কোনো সুরাহা মেলেনি। প্রতিশ্রুতির পর ১৫ দিনেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও সমস্যা সমাধান না হওয়ায় চরম দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন প্রায় ১০০টি পরিবারের মানুষ। পানি নিষ্কাশনের পথ বন্ধ থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনার শঙ্কা করছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশন পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় গ্রামের বসতবাড়ি, সরকারি সড়ক, শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে যাতায়াত মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘদিনের এ মানবেতর পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেতে গত ১৪ জুলাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সুনন্দা রায়ের কাছে লিখিত অভিযোগ দেন এলাকাবাসী।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গত ২২ ও ২৩ জুলাই যথাক্রমে ইউপি চেয়ারম্যান কামরুজ্জামান চৌধুরী এবং উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিলন কান্তি রায় ঘটনাস্থল সরজমিন পরিদর্শন করেন। পরবর্তীতে ইউএনও কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ইউপির মাধ্যমে ৩ লাখ টাকার সাময়িক বরাদ্দে পানি নিষ্কাশনের প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়েছিল। তবে সরকারি বরাদ্দ না থাকায় কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি বলে জানান ইউপি চেয়ারম্যান।
পরবর্তীতে ৪ আগস্ট ইউপি চেয়ারম্যান ও স্থানীয় প্রতিনিধিরা পুনরায় ইউএনও’র সাথে সাক্ষাৎ করলে সরকারি তহবিল না থাকা পর্যন্ত তাৎক্ষণিক স্থায়ী কাজ শুরু করা সম্ভব নয় বলে জানানো হয়। সেই সাথে পরিস্থিতি মোকাবেলায় সাময়িকভাবে প্লাস্টিকের পাইপ বসিয়ে পানি নিষ্কাশনের পরামর্শ দেন ইউএনও। এরপর চেয়ারম্যান ঘটনাস্থল ঘুরে দেখে ব্যক্তিগত ও স্থানীয় উদ্যোগে সাময়িক ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি, দ্রুত প্রাকৃতিক পানি প্রবাহের পথ পুনরুদ্ধার, স্থায়ী ড্রেনেজ অবকাঠামো তৈরি এবং ক্ষতিগ্রস্ত সরকারি সড়ক রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। সমন্বিত উদ্যোগ ও দ্রুত সরকারি বরাদ্দের মাধ্যমে এ দীর্ঘদিনের ভোগান্তির স্থায়ী অবসান চান পশ্চিম ঠাকুরের মাটি গ্রামের অধিবাসীরা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









