সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পে গুণগত মান বজায় রেখে কাজ শেষ করার পর বরাদ্দকৃত অর্থ সাশ্রয় করে তা রাষ্ট্রীয় কোষাগারে ফেরত দিলেন বরিশালের উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা। উজিরপুরের গুঠিয়া ইউনিয়নে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ খাল খনন শেষে উদ্বৃত্ত ৬০ লাখ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিয়ে সর্বস্তরের জনগণের প্রশংসায় ভাসছেন তিনি।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, গুঠিয়া ইউনিয়নের ১০ কিলোমিটার খাল খনন প্রকল্পের জন্য সরকার ২ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়। উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজার সার্বিক তত্ত্বাবধান ও উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসাইনের বাস্তবায়নে প্রকল্পটির কাজ সফলভাবে শেষ হয়। কাজ নির্ধারিত মানদণ্ড মেনে সম্পন্ন হওয়ার পরও হিসাব কষে দেখা যায় ৬০ লাখ টাকা সাশ্রয় হয়েছে, যা নিয়ম মেনে পুনরায় সরকারি তহবিলে ফেরত পাঠানো হয়।
সাধারণত সরকারি প্রকল্পে অতিরিক্ত বরাদ্দের দাবি কিংবা অর্থ খরচের প্রবণতাই বেশি দেখা যায়। কিন্তু শতভাগ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে অর্থ সাশ্রয়ের এই ঘটনাকে স্থানীয় সুশীল সমাজ ও সচেতন মহল প্রশাসনিক সততার এক অনন্য মডেল হিসেবে দেখছেন।
প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোশারফ হোসাইন জানান, সঠিক পরিকল্পনা ও অনিয়মমুক্ত ব্যবস্থাপনার কারণেই কাজের উচ্চমান বজায় রেখেও এই অর্থ সাশ্রয় করা সম্ভব হয়েছে।
এ বিষয়ে উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আলী সুজা জানান, বরাদ্দকৃত অর্থ জনগণের কষ্টার্জিত করের টাকা। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে এই অর্থের সঠিক ব্যবহার ও সংরক্ষণ আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। প্রকল্পের কাজ শতভাগ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার পর যে অর্থ উদ্বৃত্ত ছিল, তা সরকারি কোষাগারে ফেরত দেওয়া হয়েছে যাতে সরকার এটি অন্য কোনো উন্নয়নকাজে ব্যবহার করতে পারে।
স্থানীয়দের মতে, এই উদ্যোগ কেবল অর্থের সাশ্রয় নয়, বরং সরকারি প্রকল্পের স্বচ্ছতা ও আমলাতান্ত্রিক জবাবদিহির ক্ষেত্রে একটি অনুসরণীয় মাইলফলক হয়ে থাকবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









