পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে এক ট্রলারে এক সঙ্গে ৪৬ মণ ইলিশ ধরা পড়েছে। বিপুল পরিমাণ এই ইলিশ মহিপুর মৎস্য বন্দরে নিলামে বিক্রি হয়েছে ৪৮ লাখ ৫০ হাজার টাকায়। দীর্ঘদিন পর এক সঙ্গে এত ইলিশ ধরা পড়ায় উচ্ছ্বসিত জেলে ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।
ঘটনাটি ঘটে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া সংলগ্ন গভীর সাগরে। এফবি জুনায়েদ নামের ট্রলার নিয়ে ১৬ জন জেলেসহ সাগরে জাল ফেলার পর এক টানেই উঠে আসে ২ হাজার ২শ’টি ইলিশ, যার মোট ওজন ৪৬ মণ।
শুক্রবার বিকেলে মহিপুর মৎস্য আহরণ কেন্দ্রের ‘মনোয়ারা ফিস’ আড়তে এসব মাছ বিক্রির জন্য আনা হলে কৌতুহলী স্থানীয় বাসিন্দা ও পাইকারদের উপচে পড়া ভিড় জমে। খোলা নিলামের মাধ্যমে ২৪ মণ বড় সাইজের ইলিশ ২৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২২ মণ মাঝারি সাইজের ইলিশ ২০ লাখ ৯০হাজার টাকায় বিক্রি হয়।
এ বিষয়ে এফবি জুনায়েদ ট্রলারের মাঝি আলমগীর বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার ১৬ জন জেলেকে নিয়ে পায়রা বন্দরের শেষ বয়া এলাকায় জাল ফেলি। একবার টান দেয়ার পরই ২হাজার ২শ’ পিস ইলিশ উঠে আসে। প্রায় পাঁচ বছর পর একসঙ্গে এত বড় চালানের ইলিশ পেলাম। দীর্ঘদিনের লোকসানের পর এই মাছ পেয়ে খুব ভালো লাগছে।’
মাছ বিক্রির সার্বিক বিষয়ে মনোয়ারা ফিশের ম্যানেজার সগির আকন জানান, দীর্ঘদিন পর বাজারে এত বড় চালানের ইলিশ এসেছে। বর্তমানে বাজারে দর ভালো থাকায় জেলেরা ন্যায্য দাম পেয়েছেন। সাধারণত একসঙ্গে এত বড় আকারের ইলিশ পাওয়া যায় না।
সাগরে মাছের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, ‘কিছুদিন আগেও সাগরে ইলিশের খরা ছিল, তবে এখন জেলেদের জালে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ ধরা পড়ছে। এক ট্রিপেই ৪৬ মণ ইলিশ পাওয়ার ঘটনায় উপকূলের জেলেদের মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকলে সামনে ইলিশ ধরার পরিমাণ আরও বাড়বে। এতে জেলে ও আড়তদারসহ সবাই লাভবান হবেন।’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









