গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জের সাহেবগঞ্জ বাগদাফার্মে তিন সাঁওতাল হত্যার বিচার, ক্ষতিপূরণ প্রদান, বাপ-দাদার পৈতৃক জমি ফেরত এবং রক্তাক্ত তিন ফসলি জমিতে ইপিজেড না করার দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে সাঁওতাল-বাঙালিরা।
রবিবার (৯ আগস্ট) দুপুরে আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস উপলক্ষে গাইবান্ধা শহরে এই কর্মসূচি পালিত হয়। ‘আত্মনিয়ন্ত্রণ অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে আদিবাসী তরুণরাই মূল শক্তি’—প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত এই কর্মসূচির শুরুতে শহরের প্রধান প্রধান সড়কে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের করা হয়।
শোভাযাত্রায় সাঁওতাল নারী-পুরুষরা ব্যানার, প্ল্যাকার্ড ও জাতীয় পতাকা হাতে অংশ নেন। এসময় তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে ‘বাগদাফার্মের জমিতে ইপিজেড মানি না, মানব না’ সহ নানা দাবিসংবলিত স্লোগান দেখা যায়।
শোভাযাত্রা শেষে গাইবান্ধা পাবলিক লাইব্রেরি অ্যান্ড ক্লাব মিলনায়তনে এক প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটি, জাতীয় আদিবাসী পরিষদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম, আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদ, গাইবান্ধা সামাজিক সংগ্রাম পরিষদ, এএলআরডি, কাপেং ফাউন্ডেশন এবং আদিবাসী উন্নয়ন সংস্থা-ঘোড়াঘাটের যৌথ উদ্যোগে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।
সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সভাপতি ডা. ফিলিমন বাসকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, সাঁওতালদের ওপর হামলা, হত্যা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটলেও আজ পর্যন্ত অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার হয়নি। বক্তারা অভিলম্বে সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাকিল আকন্দ বুলবুল এবং স্থানীয় চিহ্নিত ভূমিদস্যু ও হামলাকারী স্বপন-সাবুকে গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
সমাবেশ থেকে কয়েকটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হয়:
১. ইপিজেড বাতিল: সাঁওতালদের রক্তের বিনিময়ে ভেজা তিন ফসলি জমিতে কোনো ধরনের ইপিজেড (EPZ) নির্মাণ করা যাবে না।
২. বিচার ও ক্ষতিপূরণ: সাঁওতাল হত্যা, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও লুটপাটের দ্রুত বিচার এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান করতে হবে।
৩. জমি ফেরত ও নিরাপত্তা: সাঁওতালদের বাপ-দাদার পৈতৃক জমি ফেরত দিতে হবে এবং ভূমিদস্যু স্বপন-সাবুর সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধে অবিলম্বে তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
৪. সাংবিধানিক স্বীকৃতি ও পৃথক কমিশন: সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন ও স্বতন্ত্র মন্ত্রণালয় গঠন এবং আদিবাসী হিসেবে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দিতে হবে।
সমাবেশে আদিবাসী-বাঙালি সংহতি পরিষদের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট সিরাজুল ইসলাম বাবু, জাতীয় আদিবাসী পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নরেন চন্দ্র পাহান, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক খোকন সুইটেন মুরমু, সাহেবগঞ্জ-বাগদাফার্ম ভূমি উদ্ধার সংগ্রাম কমিটির সাধারণ সম্পাদক রাফায়েল হাসদা, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিটিশ সরেন, গাইবান্ধা সদর উপজেলা শাখার আহ্বায়ক গোলাম রব্বানী মুসা, সামাজিক সংগ্রাম পরিষদের আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর কবির, সদস্য সচিব মোর্শেদ হাসান দীপন, আদিবাসী নেতা আনিছুর রহমান মইনুল, অঞ্জলী মুরমু ও তৃষ্ণা মুরমু বক্তব্য দেন।
বক্তারা অবিলম্বে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর ন্যায়সংগত দাবিগুলো মেনে নিয়ে তাদের ভূমির অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের কাছে জোর দাবি জানান। আলোচনা সভা শেষে ঐতিহ্যবাহী সাঁওতাল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









