সরকারি হাসপাতালে দিন-রাত ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালুর দাবিতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে একক অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন সজল কুমার পাল নামে এক নাগরিক।
সোমবার (১০ আগস্ট) সকাল ১১টায় হাসপাতাল প্রাঙ্গণে অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন দাবি ও স্লোগান তুলে ধরেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সরকারি হাসপাতালে থাকা পরীক্ষার যন্ত্রপাতি পূর্ণকালীন চালু করা গেলে রাতের বেলায় রোগীদের বাধ্য হয়ে বেসরকারি ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে ছুটতে হবে না। এতে চিকিৎসা ব্যয় কমার পাশাপাশি সরকারের রাজস্বও বাড়বে।
কর্মসূচিতে সজল কুমার পাল বলেন, সরকারি হাসপাতালের এক্স-রে, সিটি স্ক্যানসহ বিদ্যমান ডায়াগনস্টিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করেই ২৪ ঘণ্টা সেবা দেওয়া সম্ভব। এজন্য নতুন করে বিপুল অর্থ ব্যয়ে যন্ত্রপাতি কেনার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন শুধু রাতের শিফট পরিচালনার জন্য পর্যাপ্ত জনবল।
তিনি বলেন, পরীক্ষার ফি থেকে পাওয়া অতিরিক্ত রাজস্ব দিয়েই রাতের শিফটে নিয়োজিত জনবলের বেতন ও পরিচালন ব্যয় বহন করা সম্ভব। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের অব্যবহৃত বাজেটের একটি অংশও এ উদ্যোগে ব্যবহার করা যেতে পারে।
সজলের দাবি, পরীক্ষার ফি পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে আদায় করে সরাসরি সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হলে একদিকে রাজস্ব আয় বাড়বে, অন্যদিকে অর্থ আত্মসাতের সুযোগও কমবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার খরচের তুলনামূলক হিসাব তুলে ধরা হয়।
আয়োজকের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, সরকারি মূল্যে CBC ২০০ টাকা, RBS ৬০ টাকা, সিরাম ক্রিয়েটিনিন ৫০ টাকা, SGPT ৭০ টাকা, HBsAg ১৫০ টাকা, প্রস্রাব R/E ২০ টাকা, বুকের এক্স-রে ২০০ টাকা এবং আল্ট্রাসনোগ্রাম W/A ২২০ টাকা। এসব পরীক্ষায় মোট খরচ ৯৭০ টাকা।
অন্যদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে একই পরীক্ষাগুলোর জন্য যথাক্রমে ৪০০, ২৫০, ৪০০, ৫০০, ৭০০, ৩০০, ৬০০ ও ১ হাজার ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। সে হিসাবে মোট ব্যয় দাঁড়ায় ৪ হাজার ৫৫০ টাকা।
সজল কুমার পাল বলেন, সরকারি ব্যবস্থায় যে পরীক্ষাগুলো ৯৭০ টাকায় করা সম্ভব, একই পরীক্ষার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কয়েক গুণ বেশি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। বিশেষ করে রাতের সময়ে সরকারি ল্যাব বন্ধ থাকায় নিম্নআয়ের ও শ্রমজীবী মানুষ বেশি সমস্যায় পড়ছেন।
সরকারি হাসপাতালে রাতেও পরীক্ষার ব্যবস্থা থাকলে রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রবণতা কমবে বলেও দাবি করেন সজল।
তার ভাষ্য, সরকারি ল্যাব রাতে সচল থাকলে রোগীদের ভুল বুঝিয়ে বেসরকারি ক্লিনিক বা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে নেওয়ার সুযোগ কমবে। একই সঙ্গে পরীক্ষা করানোর অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ, বিশেষ করে অ্যান্টিবায়োটিক কেনার প্রবণতাও কমানো সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা নিশ্চিত করা গেলে রোগীদের ব্যয় কমার পাশাপাশি চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা ‘টেস্ট বাণিজ্য’ কিংবা রোগীকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর অভিযোগও অনেকাংশে কমতে পারে।
সজলের দাবি, দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে এ ব্যবস্থা চালু করা গেলে দক্ষ টেকনোলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট খাতে নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হবে।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে সরকারি হাসপাতালগুলোতে পর্যায়ক্রমে ২৪ ঘণ্টা ডায়াগনস্টিক সেবা চালু, ডিজিটাল পদ্ধতিতে পরীক্ষার ফি আদায় এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে দিন-রাত পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
আয়োজকের মতে, এসব ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা গেলে একদিকে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা ব্যয় কমবে, অন্যদিকে সরকারি হাসপাতালের বিদ্যমান অবকাঠামোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি সরকারের রাজস্ব আয়ও বাড়তে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









