চীনের পূর্বাঞ্চলে টাইফুন ডলফিন আঘাত হানার পর সাংহাইসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ঝড়ের প্রভাবে প্রবল বৃষ্টি শুরু হয়েছে এবং বিস্তীর্ণ অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে। শুধু সাংহাইয়েই সোমবার প্রায় ১ হাজার ফ্লাইট বাতিল করা হয়।
কর্তৃপক্ষ ডলফিনকে এখন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় ঝড়ে নামিয়ে আনলেও বুধবার পর্যন্ত ভারী বৃষ্টি, ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে। উত্তর দিকে এগিয়ে যাওয়ার সময় ঝড়টি আরও বৃষ্টি নিয়ে আসতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
ডলফিনকে কেন্দ্র করে এর আগে সর্বোচ্চ মাত্রার রেড অ্যালার্ট জারি করেছিল চীন। চলতি বছরে দেশটিতে আঘাত হানা এটিই সবচেয়ে শক্তিশালী ঝড় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। রোববার স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টায় ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ১৫০ কিলোমিটার গতির বাতাস নিয়ে ঝড়টি ঝেজিয়াং প্রদেশের ইউহুয়ানে প্রথম আঘাত হানে। প্রায় এক ঘণ্টা পর দ্বিতীয়বার আঘাত করে ওয়েনঝৌ শহরে।
সোমবার (১০ আগস্ট) শানডং, হেনান, হুবেই, আনহুই, জিয়াংসু, ঝেজিয়াং প্রদেশ ও সাংহাইয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়। মানুষকে বাইরে না যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডিজনিল্যান্ড ও লেগোল্যান্ডের কিছু অংশসহ কয়েকটি জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখা হয়েছে। সাংহাইয়ের পর্যটন এলাকা সাবেক ফরাসি কনসেশনেও নিচতলার দোকানে পানি ঢুকে পড়েছে। রাস্তায় হাঁটুসমান পানিতে মানুষ চলাচল করছে।

ঝেজিয়াংয়ের ওয়েনলিংয়ে সমুদ্রে ভেসে যাওয়ার পর নয় বছরের এক ছেলে নিখোঁজ হয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর দেয়নি চীনা কর্তৃপক্ষ। ঝেজিয়াংয়ের কিছু এলাকায় আগামী কয়েক দিনে ২৫০ থেকে ৫০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে।
ঝেজিয়াংয়ের রাজধানী হাংঝৌয়ে ঝড় ও বন্যার সময় আশ্রয় নিতে যাওয়া গাড়ির জন্য সব সরকারি পার্কিং এলাকায় ফি মওকুফ করা হয়েছে। ওয়েনঝৌয়ে প্রায় ৯ লাখ মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং এক হাজারের বেশি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। তাইঝৌ শহর থেকেও প্রায় ৩ লাখ ৯০ হাজার মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
উপকূলীয় ফুজিয়ান প্রদেশে কয়েক ডজন ফেরি চলাচল বন্ধ এবং শতাধিক সমুদ্রভিত্তিক নির্মাণকাজ স্থগিত করা হয়েছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, স্থলভাগে আঘাত হানার আগে ডলফিন প্রায় ৬ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করেছে। ফলে এর স্থায়িত্ব ছিল সাধারণ টাইফুনের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। ঝড়টির বিস্তৃতি ও বৃষ্টির ক্ষমতাও ছিল অত্যন্ত বেশি।
ঝড়কে ঘিরে চীনা ইন্টারনেটে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর অভিযোগে দুজনকে আটক করা হয়েছে। তাদের একজন ৬০ বছর বয়সী ব্যক্তি এআই ব্যবহার করে ভুয়া ভিডিও তৈরি করেছিলেন। আরেকজন ৩২ বছর বয়সী ব্যক্তি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ঝড়ের ভিডিও সম্পাদনা করে বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করেন।
চীনে আঘাত হানার আগে ডলফিন ফিলিপাইন, উত্তর তাইওয়ান ও জাপানের ওকিনাওয়ায়ও প্রবল বৃষ্টি নিয়ে আসে। ফিলিপাইনে ঝড় ও মৌসুমি ভারী বৃষ্টিতে আটজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ৭ হাজারের বেশি মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে রয়েছে। ওকিনাওয়ায় পাঁচজন প্রবীণ আহত হয়েছেন, তবে তাদের আঘাত গুরুতর নয়।
এদিকে টাইফুনের প্রভাবে উষ্ণ বাতাস ঢুকে রোববার হংকংয়ে তাপমাত্রা ৩৬ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াসে ওঠে, যা নতুন রেকর্ড। পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে সাধারণত মে থেকে অক্টোবর পর্যন্ত টাইফুনের মৌসুম।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ বছর শক্তিশালী এল নিনোর কারণে টাইফুনগুলো আরও তীব্র হতে পারে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









