২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে পাবনার সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের যমজ বোন সাইয়িদা জান্নাত নাওমি ও সাইয়িদা জাহান নাওফি। একই বিদ্যালয় থেকে একই সময়ে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে দুজনেই গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের এমন সাফল্যে পরিবার, বিদ্যালয় ও এলাকাজুড়ে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
নাওমি পেয়েছে ৯১.১২ পয়েন্ট এবং নাওফি পেয়েছে ৯৩.০৪ পয়েন্ট। তারা সুজানগর পৌরসভার মানিকদীর এলাকার বাসিন্দা। এবারের এসএসসি পরীক্ষায় তারা সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে অংশ নেয়।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবার মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। এর মধ্যে ৭২ জন শিক্ষার্থী পাস করেছে। বিদ্যালয়টির মোট ২২ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ অর্জন করেছে। তাদের মধ্যে যমজ বোন নাওমি ও নাওফির গোল্ডেন জিপিএ-৫ অর্জন বিশেষভাবে প্রশংসিত হয়েছে।
বিদ্যালয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ছোটবেলা থেকেই পড়াশোনার প্রতি নাওমি ও নাওফির গভীর আগ্রহ ছিল। নিয়মিত পড়াশোনা, অধ্যবসায় এবং শিক্ষকদের পরামর্শ মেনে চলার কারণেই তারা এই সাফল্য অর্জন করেছে।
নাওমি ও নাওফি সুজানগর মহিলা ডিগ্রি কলেজের সহকারী অধ্যাপক (আইসিটি) জহুর আহমাদ সরকার নিক্সন ও সেলিম রেজা হাবিব ডিগ্রি কলেজের প্রভাষক (ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি) মনিরা পারভীন দম্পতির দুই কন্যা।
সাফল্যের অনুভূতি জানিয়ে যমজ বোন নাওমি ও নাওফি বলেন, “আমরা একই দিনে পৃথিবীতে এসেছি এবং একসঙ্গে বেড়ে উঠছি। একই বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষা দিয়ে দুজনেই গোল্ডেন জিপিএ-৫ পাওয়ায় আমরা খুব আনন্দিত। এ সাফল্যের জন্য বাবা-মা ও শিক্ষকদের প্রতি আমরা কৃতজ্ঞ। তাদের উৎসাহ ও সহযোগিতা আমাদের এগিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা দিয়েছে।”
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে তারা জানায়, দুজনেই চিকিৎসক হয়ে দেশের মানুষের সেবা করতে চায়। নিজেদের স্বপ্ন পূরণে তারা সবার কাছে দোয়া ও আশীর্বাদ কামনা করেছে।
তাদের মা মনিরা পারভীন বলেন, “অভিভাবকেরা যদি সন্তানদের সময় দেন এবং পড়াশোনার প্রতি উৎসাহিত করেন, তাহলে তারা অবশ্যই ভালো কিছু করতে পারবে।”
বাবা জহুর আহমাদ সরকার নিক্সন বলেন, “আমার প্রত্যাশা, মেয়েরা শিক্ষার ধারাবাহিক সাফল্য ধরে রেখে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সমাজের জন্য ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। তাদের ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন পূরণে সবার কাছে দোয়া চাই।”
সুজানগর সরকারি পাইলট মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জামিল আক্তার বলেন, “নাওমি ও নাওফির পড়াশোনার প্রতি আগ্রহ, নিয়ম-শৃঙ্খলা ও নম্র আচরণ প্রশংসনীয়। তারা শুধু মেধাবী নয়, ভালো মানুষ হিসেবেও নিজেদের গড়ে তুলছে। তাদের এ অর্জনে আমরা শিক্ষকেরা গর্বিত। ভবিষ্যতেও তারা আরও ভালো করবে বলে আশা করি।”
যমজ দুই বোনের এমন সাফল্যে তাদের পরিবার, শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মধ্যে আনন্দের পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









