প্রিপেইড মিটার বাতিল ও অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহারের দাবিতে নারায়ণগঞ্জে সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরাম।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) শহরের চাষাঢ়া কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশ শেষে একটি গণমিছিল চাষাঢ়া থেকে শুরু হয়ে কালীবাজার হয়ে নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে গিয়ে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যুতের অযৌক্তিক স্ল্যাব ও প্রিপেইড মিটারের মাধ্যমে গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত বিলের বোঝা চাপানো হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গ্রাহকদের না জানিয়ে বাসাবাড়িতে গিয়ে আগের মিটার খুলে প্রিপেইড মিটার স্থাপন করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সমাবেশে সভাপতির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ নাগরিক অধিকার ফোরামের আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, সরকার বিদ্যুতের দাম সাড়ে ১৫ শতাংশ বাড়ানোর কথা বললেও সাতটি অন্যায্য স্ল্যাব তৈরি করে বাস্তবে ১০০ থেকে ১৫০ শতাংশ পর্যন্ত বিল বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে তারা মনে করছেন। ডিপিডিসির এ ব্যবস্থার কারণে সাধারণ গ্রাহকের ১ হাজার টাকার বিল ৩ থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে যাচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তিনি আরো বলেন, “প্রয়োজনে মামলা-হামলা কিংবা জেলে যাব, তবুও নারায়ণগঞ্জে আর প্রিপেইড মিটার লাগাতে দেব না। সরকার যদি দ্রুত বিদ্যুৎ বিলের কারচুপি ও প্রিপেইড মিটার প্রত্যাহার না করে, তবে নারায়ণগঞ্জ অচল করে দেওয়ার মতো হরতাল কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।”
কর্মসূচির পরবর্তী পরিকল্পনা তুলে ধরে মাহবুবুর রহমান ইসমাইল বলেন, ১২ থেকে ২৪ আগস্ট পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও গণকমিটি গঠন করা হবে। এরপর ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সামনে গণঅনশন এবং ১ সেপ্টেম্বর ঢাকায় বিদ্যুৎ ভবনের সামনে অবস্থান ধর্মঘট পালন করা হবে। এতেও দাবি আদায় না হলে হরতালের কর্মসূচি দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সংগঠনের প্রধান উপদেষ্টা ও নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মাহবুবুর রহমান মাসুম বলেন, তাদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়েছেন নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল্লাহ আল আমিন। ডিপিডিসির দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে আপাতত প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে বলেও তিনি দাবি করেন।
তিনি বলেন, “বিদ্যুৎ বিভাগের এই তেলেসমাতি ও প্রিপেইড মিটারের অমানবিক দিকগুলো বিবেচনা করে নারায়ণগঞ্জসহ সারা দেশ থেকে প্রিপেইড মিটার প্রকল্প অবিলম্বে প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”
মাহবুবুর রহমান মাসুম আরো বলেন, প্রিপেইড মিটারে টাকা রিচার্জের সময় সার্ভিস চার্জ ও ভ্যাটের নামে অর্থ কেটে নেওয়া হচ্ছে, যা গ্রাহকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করছে।
সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন নাগরিক অধিকার ফোরামের উপদেষ্টা হাজী রুহুল আমীন, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক কাউন্সিলর মাকছুদুল আলম খন্দকার খোরশেদ, ভবানী শঙ্কর রায়সহ স্থানীয় বিভিন্ন নাগরিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
বক্তারা প্রিপেইড মিটার স্থাপন বন্ধ, অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল প্রত্যাহার এবং বিদ্যুৎ বিল ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার দাবি জানান।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









