শরীয়তপুরের জাজিরায় একের পর এক বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে স্থানীয়দের মধ্যে। সর্বশেষ বোমা বিস্ফোরণে একজন নিহত হওয়ার মাত্র একদিনের ব্যবধানে আবারও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে একটি ভবনের ছাদের নিরাপত্তা গাইডওয়াল ভেঙে গেছে এবং পানির ট্যাংক ফেটে ছিটকে পড়ে। ধারাবাহিক এসব ঘটনায় পুলিশের তৎপরতা ও বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অগ্রগতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দিবাগত রাতে জাজিরা পৌরসভার জামাল মাদবরের কান্দি এলাকায় শাহ আলম বেপারীর একটি ভবনের ছাদে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ভবনের ছাদের নিরাপত্তা গাইডওয়াল ভেঙে যায়। ছাদে থাকা পানির ট্যাংকও ফেটে গিয়ে পাশের স্থানে পড়ে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।
এর মাত্র একদিন আগে, সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় জাজিরার লাউকোলা এলাকায় দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় মান্নান সরদার (৭০) নামে এক ব্যক্তি নিহত হন। ওই ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন আহত হন। ওই ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই ফের বোমা বিস্ফোরণের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
এর আগে গত ২৯ জুলাই সকালে জাজিরার বিকেনগর ইউনিয়নের কদম আলী মাদবর কান্দি গ্রামের জব্বার মাদবরের বাড়ির টয়লেটের ছাদে শক্তিশালী বোমা বিস্ফোরণ ঘটে। এতে টয়লেটের ছাদ ধসে পড়ে এবং ওপরের পানির ট্যাংকটি বিস্ফোরণের তীব্রতায় উড়ে গিয়ে অন্য স্থানে পড়ে।
তারও একদিন আগে, ২৭ জুলাই বিলাসপুর ইউনিয়নে এক প্রবাসীর বাড়ির পেছনের সেপটিক ট্যাংকে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে সেপটিক ট্যাংকের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
অর্থাৎ গত ১৫ দিনের মধ্যে জাজিরার তিনটি পৃথক এলাকায় বোমা বা ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এর বাইরে গত কয়েক মাসে বিলাসপুর ইউনিয়নে একাধিক ককটেল বিস্ফোরণ, কবরস্থান থেকে বিপুলসংখ্যক ককটেল উদ্ধারের ঘটনা এবং সর্বশেষ সংঘর্ষে বোমা বিস্ফোরণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।
সর্বশেষ বিস্ফোরণের খবর পেয়ে জাজিরা থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভবনের ছাদে ককটেল মজুত ছিল। তবে কীভাবে সেখানে বিস্ফোরক গেল এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে জাজিরার বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বোমা ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটলেও এসব ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। এক ঘটনায় প্রাণহানির মাত্র একদিন পর ফের বিস্ফোরণের ঘটনায় পুলিশের নজরদারি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এসব ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে না দেখে বিস্ফোরকগুলো কোথা থেকে আসছে, কারা এগুলো তৈরি বা মজুত করছে এবং এসব ঘটনার মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না তা গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দ্রুত তদন্ত শেষ করে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালেহ আহমেদ বলেন, ‘‘খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। উক্ত ঘটনার সঙ্গে কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখছি। যদি কেউ ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’’
তবে স্থানীয়দের প্রশ্ন প্রতিটি বিস্ফোরণের পর পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত সংগ্রহ করলেও বিস্ফোরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে দৃশ্যমান ফলাফল কবে আসবে? বিশেষ করে একজন নিহত হওয়ার মাত্র একদিন পর ফের বিস্ফোরণের ঘটনায় জাজিরার মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের আরও কার্যকর, দৃশ্যমান ও প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন তারা।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









