সিলেট নগরের রায়নগর এলাকায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের গৃহকর্মীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনায় রহস্য উন্মোচন করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কোনো ক্লু না থাকা এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। এ ঘটনায় বাবুল মিয়া (৪০) নামের এক রঙমিস্ত্রিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বুধবার (১১ আগস্ট) সকালে মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে বিকেল ছয়টার দিকে সন্দেহভাজন হিসেবে বাবুল মিয়াকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
নিহতরা হলেন মো. আব্দুস সাত্তার (৮২), তাঁর স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনা (১৫)। পুলিশ জানায়, একটি কক্ষ থেকে সুরাইয়া ও তাহমিনার এবং অন্য একটি কক্ষ থেকে আব্দুস সাত্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
বুধবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমকে এসব তথ্য জানান সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম।
পুলিশ কমিশনার বলেন, “বাবুল মিয়া ওই বাড়িতে রঙের কাজ করতেন। এ সুবাদে গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ঘটনার দিন সকাল নয়টার দিকে তিনি ওই বাসায় ঢোকেন। পরে তাহমিনার সঙ্গে কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে ছুরি দিয়ে তাকে আঘাত করেন। তাহমিনাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে সুরাইয়া বেগমকেও আঘাত করা হয়। পরে আব্দুস সাত্তার এগিয়ে এলে তাকেও আঘাত করে বাবুল বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান।”
ওই বাসায় দুজন গৃহকর্মী থাকতেন। তাদের একজন তাহমিনা নিহত হয়েছেন। অপর গৃহকর্মীর এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।
প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, সকালে বাসার দরজার নিচ দিয়ে রক্ত বের হতে দেখে তারা পুলিশকে খবর দেন। পরে দরজা খুলে তিনজনের রক্তমাখা মরদেহ পাওয়া যায়।
সিলেট কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মইনুল জাকির বলেন, “ধারালো অস্ত্র দিয়ে তিনজনকে আঘাত করা হয়েছে। তাদের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।” তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি বলে জানান তিনি।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









