সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক (ডিসি) কাউসার আজিজের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের সঙ্গে রূঢ় ও অসহযোগিতামূলক আচরণ, ফোন না ধরা, ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে অনীহা এবং সাংবাদিকদের অপমান করার অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের প্রতিবাদে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের নির্বাহী কমিটির জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে প্রেস ক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম। সভায় নির্বাহী কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা সাংবাদিকদের সঙ্গে জেলা প্রশাসকের কথিত রূঢ় ও অসহযোগিতামূলক আচরণের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।
সভায় প্রেস ক্লাবের সাহিত্য, সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক এবং যমুনা টেলিভিশনের নিজস্ব প্রতিবেদক আকরামুল ইসলাম অভিযোগ করেন, গত বছরের ৫ আগস্ট সাতক্ষীরা জেলা কারাগার ভাঙচুরের ঘটনায় হত্যা মামলার পলাতক আসামি আব্দুল আলিম আত্মগোপনে থাকা অবস্থায় কলারোয়া উপজেলা ভূমি অফিসে জমি-সংক্রান্ত একটি মামলা করেন। তার অভিযোগ, ওই মামলা কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তা নিয়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি সম্প্রতি ভূমি অফিসে যান। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ক্যামেরার সামনে বক্তব্য দিতে রাজি হননি।
আকরামুল ইসলামের দাবি, পরদিন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে প্রায় তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর তিনি জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান। পলাতক আসামির ভূমি অফিসে মামলা পরিচালনার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা প্রশাসক তার ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং সাংবাদিকদের কাজ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ঘটনার পর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হাসেম ও কয়েকজন সহকারী কমিশনার ক্যামেরাপারসন ইয়ারুল ইসলামের কাছে থাকা ক্যামেরা পরীক্ষা করেন।
প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এবং বাংলাভিশন ও বাসসের জেলা প্রতিনিধি আসাদুজ্জামান অভিযোগ করেন, গত ২৯ জুলাই সদর হাসপাতাল মোড়ের দুটি ক্লিনিকে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন অভিযোগে জরিমানা করেন এনডিসি তাজুল ইসলাম। ওই অভিযানের বিষয়ে তথ্য জানতে চাইলে তিনি সংবাদ প্রকাশ না করার পরামর্শ দেন এবং তথ্য দিতে অনীহা প্রকাশ করেন বলে অভিযোগ করেন আসাদুজ্জামান।
তিনি বলেন, ‘‘বিষয়টি নিয়ে পরদিন কয়েকজন সিনিয়র সাংবাদিককে সঙ্গে নিয়ে জেলা প্রশাসকের কাছে গেলে তাদের বক্তব্য না শুনেই ভর্ৎসনা করা হয়।’’
প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এম বেলাল হোসাইন বলেন, ‘‘সংবাদ-সংক্রান্ত বিষয়ে জেলা প্রশাসককে ফোন করলে সাংবাদিক পরিচয় দেওয়ার পর তিনি ক্ষুব্ধ হন।’’
তার অভিযোগ, জেলা প্রশাসক বলেন, ‘‘সাংবাদিকদের বক্তব্য দেওয়া তার কাজ নয় এরপর ফোন রেখে দেন।’’
সভায় আরও অভিযোগ করা হয়, মাইটিভির সাতক্ষীরা প্রতিনিধি ফয়জুল হক বাবুসহ আরও কয়েকজন সাংবাদিকও জেলা প্রশাসকের কথিত অসৌজন্যমূলক আচরণের শিকার হয়েছেন।
এদিকে গত ৫ আগস্ট সাতক্ষীরায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদ পরিবার ও আহতদের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের প্রশাসকসহ রাজনৈতিক নেতাদের মঞ্চে আমন্ত্রণ না জানানোর বিষয়টিও সভায় আলোচিত হয়। জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ, জেলা জামায়াতের আমির শহীদুল ইসলাম মুকুলসহ রাজনৈতিক নেতারা অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন বলে সভায় জানানো হয়।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রাহমাতুল্লাহ পলাশ বলেন, ‘‘মঞ্চে কাউকে না ডাকায় জেলা পরিষদ প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব ভাইয়ের নেতৃত্বে আমরা সবাই অনুষ্ঠান থেকে চলে আসি।’’
সার্বিক বিষয়ে সাতক্ষীরা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবুল কাসেম বলেন, ‘‘জেলার সমস্যা, সম্ভাবনা ও বিভিন্ন বিষয়ে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে অতীতে সাংবাদিকরা কোনো জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে এমন অসহযোগিতার মুখে পড়েননি।’’ তার দাবি, অতীতের জেলা প্রশাসকদের কাছ থেকে প্রয়োজন অনুযায়ী এমনকি গভীর রাতেও বক্তব্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘‘জেলা প্রশাসক রাষ্ট্রের প্রতিনিধি। বর্তমান সরকারের অন্যতম নির্বাচনি অঙ্গীকার সুশাসন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা। সে ক্ষেত্রে জেলা প্রশাসকের এমন আচরণ কাম্য নয়।’’
তবে সাংবাদিকদের এসব অভিযোগের বিষয়ে জেলা প্রশাসক কাউসার আজিজের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে সংযুক্ত করা হবে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









