গাজীপুরে তুরাগ নদে ট্রলারে বসে জুয়া খেলার সময় পুলিশ ভেবে কয়েকজনকে আসতে দেখে পানিতে ঝাঁপ দেওয়া মোয়াজ্জেম হোসেন (৪৫) নামের এক যুবকের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
বুধবার (১২ আগস্ট) রাতে নিখোঁজ হওয়ার দুই দিন পর শুক্রবার সকালে নগরের কড্ডা এলাকা থেকে তার লাশ উদ্ধার করা হয়।
নিহত মোয়াজ্জেম হোসেন নগরের খালিশাবর্তা এলাকার মোহাম্মদ আলীর ছেলে। পরে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গাজীপুরের তুরাগ নদের কাউলতিয়া, কারখানা বাজার, কড্ডাসহ আশপাশের এলাকায় বেশ কয়েক দিন ধরে নৌকায় বসে জুয়া ও মাদকের আড্ডা বসানোর অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ মাঝেমধ্যে অভিযান চালালেও নদে থাকায় অভিযুক্তদের ধরতে অনেক সময় ব্যর্থ হয়।
বুধবার রাতে মোয়াজ্জেমসহ চার থেকে পাঁচজন তুরাগ নদে একটি ট্রলারে বসে জুয়া খেলছিলেন। এ সময় আরেকটি ট্রলারে কয়েকজন লোক তাঁদের ট্রলারের কাছে গেলে তারা পুলিশ এসেছে বলে ধারণা করেন। একপর্যায়ে ভয়ে মোয়াজ্জেমসহ চারজন নদে ঝাঁপ দেন। তাদের মধ্যে তিনজন সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন।
ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন নদে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। সন্ধান না পেয়ে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হলে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ডুবুরিরা উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। দিনভর অভিযান চালিয়েও মোয়াজ্জেমের সন্ধান পাওয়া যায়নি।
শুক্রবার ভোরে নগরের কড্ডা এলাকায় তুরাগ নদে তার লাশ ভেসে ওঠে। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে।
মোয়াজ্জেমের চাচাতো ভাই দেলোয়ার হোসেনের দাবি, মোয়াজ্জেমসহ চার থেকে পাঁচজন ট্রলারে বসে ছিলেন। এ সময় পাঁচ থেকে ছয়জন লোক এসে তাদের ট্রলার থেকে নেমে আসতে বলেন। না নামলে গুলি করার হুমকি দেওয়া হয়। এতে ভয় পেয়ে চারজন নদে ঝাঁপ দেন। তিনজন তীরে উঠতে পারলেও মোয়াজ্জেম নিখোঁজ হন।
গাজীপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আমিনুল ইসলাম বলেন, ওই দিন সেখানে পুলিশের কোনো অভিযান চালানো হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা জুয়া খেলছিলেন। কয়েকজনকে দেখে পুলিশ মনে করে ভয় পেয়ে তারা তুরাগ নদে ঝাঁপ দেন। এ ঘটনায় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









