টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে বসতঘর থেকে মা ও সন্তানের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। চার বছরের কন্যাশিশুকে বালিশচাপা দিয়ে হত্যার পর মা আত্মহত্যা করেছেন বলে ধারণা পুলিশের।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার আনাইতারা ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
তারা হলেন— উপজেলাের একই ইউনিয়নের ধুপুরিয়া গ্রামের রাজমিস্ত্রি রাজীব হোসেনের স্ত্রী কনিকা আক্তার (২৮) ও তাদের ৪ বছরের কন্যাশিশু রাজিয়া।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৬ বছর আগে প্রেমের সম্পর্কের মাধ্যমে রাজীব ও কনিকার বিয়ে হয়। তবে বিয়ের পর থেকেই তাদের দাম্পত্য জীবনে নানা বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ চলছিল। কনিকার স্বামী রাজীব হোসেন বর্তমানে কাজের প্রয়োজনে সিলেটে রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার সকালে কনিকা তার কন্যাশিশুকে নিয়ে নিজের বাবার বাড়িতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। কিন্তু পথে শ্বশুড় নাজিমউদ্দিন ও শ্বাশুড়ি তাকে বাবার বাড়িতে যেতে বাধা দেন এবং জোরপূর্বক বাড়িতে ফিরিয়ে আনেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
বাড়িতে ফিরে কণিকা মেয়েকে নিয়ে নিজেদের ঘরে ঢোকেন। দীর্ঘ সময় তাদের কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা ঘরের ভেতর উঁকি দেন। এ সময় তারা ঘরের আড়ার সঙ্গে কনিকার ঝুলন্ত লাশ দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে মেঝেতে শিশু রাজিয়ার লাশ পড়ে থাকতে দেখেন।
খবর পেয়ে মির্জাপুর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আদনান মোস্তাফিজ ও মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুল্লাহ আল মামুন ঘটনাস্থলে যান। পুলিশ মা ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে।
স্থানীয়রা জানান, শ্বশুরবাড়ির লোকজনের সঙ্গে বিবাদ এবং বাবার বাড়িতে যেতে বাধা পাওয়ার জেরে ক্ষোভে নিজের সন্তানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করার পর কনিকা নিজে আত্মহত্যা করে থাকতে পারেন।
এ ঘটনায় মির্জাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল থেকে মা ও তার কন্যাশিশুর মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ কাজ করছে।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









