দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা থেকে ৫ শতাংশ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবিতে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন চা-শ্রমিকেরা। একই সঙ্গে ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিলের দাবি জানিয়েছেন তারা।
শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে উপজেলার মুরইছড়া চা-বাগানে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
মুরইছড়া চা-বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি ও চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য জয়কৃষানের সভাপতিত্বে সমাবেশ সঞ্চালনা করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সদস্য সত্যজিৎ উরাং। এতে বক্তব্য দেন সংগঠনের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ, সমন্বয়ক মনীষা ওয়াহিদ, শ্রমিকনেতা ভাগ্য, রাজু উরাং, মনি নায়েক ও মালতি রায়।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, চা-শ্রমিকেরা দেশের অন্যতম সর্বনিম্ন মজুরিতে কাজ করছেন। বর্তমানে একজন শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ১৮৭ টাকা। মাসে ২৬ দিন কাজ করলেও এতে আয় হয় মাত্র ৫ হাজার ২৩৬ টাকা। অথচ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম প্রতিনিয়ত বাড়ছে। ফলে এই সামান্য আয় দিয়ে শ্রমিকদের পরিবার-পরিজন নিয়ে জীবনযাপন করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
বক্তারা বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ১০ জুনের প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে বলেন, দেশে মানুষের মাসিক গড় আয় ৩০ হাজার ৭৩৯ টাকা। এর বিপরীতে একজন চা-শ্রমিকের মাসিক আয় মাত্র কয়েক হাজার টাকা। এতে চা-শ্রমিকদের সঙ্গে দেশের অন্যান্য শ্রমজীবী মানুষের আয়বৈষম্যের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।
তারা আরও বলেন, কোনো কোনো চা-বাগানে দৈনিক হাজিরা পেতে একজন শ্রমিককে ২৩ থেকে ২৫ কেজি পর্যন্ত চা-পাতা তুলতে হয়। কঠোর পরিশ্রমের পরও তারা দেশের অন্যতম সর্বনিম্ন মজুরি পাচ্ছেন। ২০২৩ সালের সরকারি গেজেট অনুযায়ী ৫ শতাংশ হারে মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত হলেও এতে দৈনিক মজুরি সামান্যই বাড়ছে, যা বর্তমান বাজারদরের সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
সমাবেশে বক্তারা জানান, সম্প্রতি কুলাউড়া সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের জন্য সংসদে সিদ্ধান্ত প্রস্তাব উত্থাপন করেন। কয়েকজন সংসদ সদস্যও এ বিষয়ে আলোচনা করেন। শ্রমমন্ত্রী বিষয়টি সরকারের বিবেচনায় রয়েছে বলে আশ্বস্ত করায় প্রস্তাবটি প্রত্যাহার করা হয়। তবে পরে শ্রমমন্ত্রী চা-শ্রমিকেরা হাজিরার বাইরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটিকে শ্রমিকেরা বাগান মালিকদের প্রচারণা বলে দাবি করেন।
বক্তারা বলেন, চা-শিল্পে প্রতিবছর উৎপাদনের নতুন রেকর্ড হলেও শ্রমিকদের জীবনমানের তেমন উন্নতি হচ্ছে না। নিলামে চায়ের দাম বাড়লেও মালিকেরা লোকসানের অজুহাতে শ্রমিকদের মজুরি বাড়াতে অনাগ্রহী। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকেও মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসায় শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।
তারা বলেন, দীর্ঘ ১৮৫ বছর ধরে এ অঞ্চলে বসবাস করেও চা-শ্রমিক জনগোষ্ঠীর বড় একটি অংশ এখনো ভূমিহীন। স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও তারা মৌলিক নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। ২০২২ সালের আগস্টে ১৯ দিনের আন্দোলনের মাধ্যমে চা-শ্রমিকেরা মজুরি বৃদ্ধির দাবি আদায় করেছিলেন। এবারও রাজপথের আন্দোলনের মাধ্যমেই ন্যায্য মজুরি আদায় করা হবে।
সমাবেশে চা-শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের প্রধান সমন্বয়ক এস এম শুভ বলেন, ‘‘চা-শ্রমিকদের মজুরি সংসদে নয়, রাজপথের লড়াইয়ের মাধ্যমেই বৃদ্ধি পাবে। তিনি ৫ শতাংশ মজুরি বৃদ্ধির গেজেট বাতিল করে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৫০০ টাকা নির্ধারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন চা-শ্রমিক নেতারা।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









