সিলেট নগরের রায়নগরে ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় প্রকৃত রহস্য উদঘাটন, প্রকৃত অপরাধীদের গ্রেপ্তার, তদন্তের নিরপেক্ষতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং আইনের সর্বোচ্চ পর্যায়ে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে নিহতদের পরিবার। নিহত আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির সন্তানরা এ দাবি জানান।
হত্যাকাণ্ডের পাঁচ দিন পর সোমবার (১৭ আগস্ট) সকালে রায়নগরের মিতালী আবাসিক এলাকার ওই বাসায় সংবাদ সম্মেলন করে নিহত দম্পতির প্রবাসী সন্তানেরা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য দেন নিহত আব্দুস সাত্তারের ছেলে আরিফ ইফতেখার।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, মামলাটির তদন্ত সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও তদন্তসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানানো হচ্ছে। একই সঙ্গে আব্দুস সাত্তার, সুরাইয়া বেগম ও গৃহপরিচারিকা তাহমিনার ছবি এবং সংবাদ অনলাইন পোর্টাল, ফেসবুক বা অন্য কোনো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান তিনি।
আরিফ ইফতেখার বলেন, ‘এই মামলায় কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যেন হয়রানির শিকার না হন। একই সঙ্গে প্রভাবশালী হওয়ার কারণে কেউ যেন পার পেয়ে না যান।’
তিনি আরও বলেন, পুলিশের তদন্ত সন্তোষজনক না হলে মামলাটি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগে (সিআইডি) হস্তান্তরের আহ্বান জানাবেন তারা।
নিজেদের মানসিক অবস্থার কথা উল্লেখ করে সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্নের উত্তর দেননি পরিবারের সদস্যরা।
সংবাদ সম্মেলনে নিহত আব্দুস সাত্তারের তিন মেয়ে তাহমিনা, সেলিনা ও তারানা উপস্থিত ছিলেন। তারা আশা প্রকাশ করেন, সত্য কখনো চাপা পড়ে থাকবে না, একসময় তা প্রকাশিত হবেই।
পরিবারের পক্ষ থেকে নিহত তিনজনের আত্মার শান্তির জন্য সবার কাছে দোয়া চাওয়া হয়।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগর মিতালী আবাসিক এলাকার ১১১ নম্বর বাসার দোতলা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭২) ও গৃহকর্মী তাহমিনার (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। আব্দুস সাত্তার সিলেট চেম্বার অব কমার্সের সাবেক পরিচালক ও ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ছিলেন।
ঘটনার দিন বিকেল তিনটার দিকে রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার আক্তার মিয়ার কলোনির বাসিন্দা ও প্রয়াত নূর মিয়ার ছেলে বাবুল মিয়াকে (৪০) আটক করে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছেন বলে জানায় পুলিশ।
পুলিশের ভাষ্য, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা একটি ছুরি উদ্ধার করা হয়। পুলিশের দাবি, ঘটনার দিন গৃহকর্মী তাহমিনার কোনো আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে বাবুল প্রথমে তাকে এবং পরে একে একে আরও দুজনকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন। এরপর বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান।
তবে নিহত দম্পতির পরিবার শুরু থেকেই পুলিশের এই দাবি অস্বীকার করে আসছে। হত্যাকাণ্ডের তিন দিন পর শুক্রবার রাতে সাত্তার-সুরাইয়া দম্পতির প্রবাসী মেয়ে সেলিনা সুলতানা বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় মামলা করেন। এজাহারে জমিসংক্রান্ত পূর্ববিরোধের জেরে ভাড়াটে লোক দিয়ে তার বাবা-মা ও গৃহকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এদিকে গতকাল রবিবার জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বাবুল মিয়াকে চার দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









