চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনির ১৬৮ জন শ্রমিক শনিবার (১৫ আগস্ট) থেকে লাগাতার বিক্ষোভ সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট পালন করে আসছেন। ওই দিন সকালে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান তাদেরকে কর্মহীন ঘোষণা করলে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা লাগাতার আন্দোলন শুরু করেন।
সোমবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনিতে গেলে দেখা যায়, চাকরি হারা শ্রমিকরা বিক্ষোভ মিছিল, সমাবেশ ও অবস্থান ধর্মঘট করছে। বিকালে আন্দোলনরত শ্রমিকরা সাংবাদিকদের জানান, অবিলম্বে চাকরিতে পুনর্বহাল করা না হলে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
শ্রমিকরা জানান, ৮ বছর আগে বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে কয়লা উত্তোলনের প্রাক্কালে খনি ভূ-গর্ভে টানেল (সুড়ঙ্গ পথ) নির্মাণের জন্য খনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’ কনসোটিয়াম তাদেরকে খনি শ্রমিক হিসাবে নিয়োগ প্রদান করে। তবে ২০২২ সালে পেট্রোবাংলার সঙ্গে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র ২০২৭ সাল পর্যন্ত ৫ বছর মেয়াদি যে নতুন চুক্তি হয় ওই সময় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান দাবি অনুযায়ী তাদের সাব ঠিকাদার ‘জেএসএমই’ ওই ১৬৮ জন শ্রমিককে টানেল শ্রমিক হিসাবে কাজে নিয়োজিত করে।
তবে বর্তমানে কর্মহীন এসব শ্রমিক দাবি করেন ওই সময় নিয়োগ করা ১১৪৩ জন শ্রমিকের সবাই চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’ হাতে নিয়োগপ্রাপ্ত। দ্বিপাক্ষিক চুক্তি অনুযায়ী সাব কন্ট্রাক্টারের টানেল নির্মাণ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে এই মুহূর্তে তাদের এসব শ্রমিকের আর প্রয়োজন নেই। গত শনিবার সকালে ওই সব শ্রমিককে কাজে যোগদানে বাধা দিলে শ্রমিকরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠে ও চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে আন্দোলনের ডাক দেয়।
এ ব্যাপারে খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শাহ আলম বলেন, ‘‘কর্মহীন শ্রমিকেরা মূল ঠিকাদারি চীনা প্রতিষ্ঠান ‘সিএমসি-এক্সএমসি’র সাব কন্ট্রাক্টার জে এসএমই’র নিয়োগকৃত। এজন্য তাদের ব্যাপারে খনি কর্তৃপক্ষের করার তেমন কিছু নেই। তবে বিভিন্ন সময় শ্রমিকদের দাবি দাওয়ার ব্যাপারে আমরা বরাবরই সহানুভূতিশীল এবং শ্রমিকদের দাবির ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারদের সাথে যোগাযোগ রক্ষার চেষ্টা করে থাকি। বর্তমান পরিস্থিতিতেও আমরা দু’পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলছি।’’


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









