নির্মাণের প্রায় ৪৫ বছর পেরিয়ে গেলেও বড় ধরনের সংস্কার হয়নি বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার তিনটি সরকারি খাদ্যগুদামের। দীর্ঘদিনের রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে গুদামগুলোর ভবন এখন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। বিভিন্ন স্থানে দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ছাদ। বর্ষায় ছাদ চুইয়ে পানি পড়ায় খাদ্যশস্য সংরক্ষণ নিয়েও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
গুদাম-সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৮০ সালে নির্মিত এসব খাদ্যগুদাম দীর্ঘদিন ধরে একই অবস্থায় রয়েছে। সময়ের সঙ্গে ভবনের বিভিন্ন অংশ দুর্বল হয়ে পড়লেও প্রয়োজনীয় সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়েই কাজ করছেন শ্রমিকরা। বিশেষ করে বর্ষাকালে ছাদ দিয়ে পানি ঢুকে খাদ্যশস্য ভিজে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। বৃষ্টির সময় পলিথিন দিয়ে খাদ্যশস্য ঢেকে রাখার চেষ্টা করা হলেও তা কোন স্থায়ী সমাধান নয়।
পাথরঘাটা খাদ্যগুদামের লেবার সরদার মো. হাবিবুর রহমান বলেন, “গুদামের ভেতরে কাজ করতে আমাদের সব সময় ভয় লাগে। মাঝে মধ্যে দেয়ালের পলেস্তারা খসে শ্রমিকদের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে পড়েছে। ভবনটি নির্মাণের পর বড় ধরনের কোনো সংস্কার করা হয়নি।”
তিনি আরো বলেন, গুদামের সামনের সড়কের অবস্থাও খারাপ। ফলে খাদ্যশস্য ওঠানো-নামানোর সময় শ্রমিকদের বাড়তি দুর্ভোগ পোহাতে হয়। খাদ্যসামগ্রীবাহী নৌযান বা কার্গো থেকে মালামাল নামানোর জন্যও পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেই। বাধ্য হয়ে কাঠের তক্তা ফেলে ঝুঁকি নিয়ে খাদ্যপণ্য গুদামে নিতে হয়।
গুদামগুলোর অবকাঠামোগত দুরবস্থা শুধু শ্রমিকদের নিরাপত্তাই নয়, সরকারি খাদ্য মজুতের নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্ন তৈরি করেছে। ছাদ দিয়ে পানি পড়া অব্যাহত থাকলে সংরক্ষিত চালসহ অন্যান্য খাদ্যশস্যের মান নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি ভবনের কোনো অংশ ধসে পড়লে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কাও করছেন সংশ্লিষ্টরা।
পাথরঘাটা উপজেলা খাদ্য পরিদর্শক অঞ্জন কুমার ডাকুয়া বলেন, “গুদামগুলো বর্তমানে খুবই ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে দেয়াল ও ছাদের পলেস্তারা খুলে পড়ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করছি, দ্রুত গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের দাবি, খাদ্য সংরক্ষণের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা বছরের পর বছর সংস্কারহীন অবস্থায় রাখা উচিত নয়। দ্রুত গুদামগুলোর কাঠামোগত পরীক্ষা, ছাদ ও দেয়াল সংস্কার এবং পণ্য ওঠানো-নামানোর জন্য নিরাপদ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। তা না হলে একদিকে যেমন শ্রমিকদের জীবনের ঝুঁকি বাড়বে, অন্যদিকে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ খাদ্য মজুত।


সর্বশেষ খবর পেতে দৈনিক এদিন এর গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন









